বাড়ির বাথরুম থেকে মাটির গন্ধ উঠলে কী দিলে বন্ধ হয়।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে থাকলে শরীর আর মন দুটোই ভালো থাকে। বাসা পরিষ্কার রাখার কথা বললে সবার আগে রান্নাঘর আর বাথরুমের কথা আসে। বিশেষ করে বাথরুমে সবচেয়ে বেশি জীবাণু থাকে। তাই সুস্থ থাকতে হলে বাথরুম সব সময় পরিষ্কার আর গন্ধমুক্ত রাখা খুব জরুরি।

বাড়ির-বাথরুম-থেকে-মাটির-গন্ধ-উঠলে-কী-দিলে-বন্ধ-হয়

অনেক সময় বাথরুমে ঢুকলেই এক ধরনের মাটির বা স্যাঁতস্যাঁতে গন্ধ পাওয়া যায়,যা খুবই বিরক্তিকর।তবে চিন্তার কিছু নেই,কিছু সহজ উপায় মেনে চললেই এই গন্ধ দূর করা সম্ভব। চলুন জেনে নেই কী করলে বাথরুমের এই বিরক্তিকর গন্ধ বন্ধ করা যায়।

পেজ সূচিপএঃবাড়ির বাথরুম থেকে মাটির গন্ধ উঠলে কী দিলে বন্ধ হয়,বিস্তারিতভাবে জেনে নিন।

বাড়ির বাথরুম থেকে মাটির গন্ধ উঠলে কী দিলে বন্ধ হয়

বাড়ির বাথরুম থেকে মাটির গন্ধ উঠলে কী দিলে বন্ধ হয়।সবাই চায় বাথরুম পরিষ্কার আর ঝকঝকে থাকুক। কিন্তু অনেক সময় এত পরিষ্কার রাখার পরও এক ধরনের স্যাঁতস্যাঁতে গন্ধ থেকেই যায়। তখন এই গন্ধ দূর করা কঠিন হয়ে পড়ে। এমন অবস্থায় বাথরুমে যেতে ইচ্ছা করে না,আর কখনো কখনো অতিথিদের সামনে পড়লেও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।প্রত্যেকেই নিজের মতো করে ঘরটা সুন্দর করে সাজাতে চান। ঘরের সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও যদি বাথরুম থেকে দুর্গন্ধ আসে,তাহলে সেটা খুবই বিরক্তিকর লাগে। অনেক সময় ভালোভাবে পরিষ্কার করার পরও এই সমস্যা থেকে যায়। তবে চিন্তার কিছু নেই,কিছু সহজ ঘরোয়া উপায় ব্যবহার করলেই এই সমস্যার সমাধান করা যায়।

বাথরুমে যেন কোনো দুর্গন্ধ না থাকে,তার জন্য কিছু বিষয় খেয়াল রাখা দরকার। যেমন,টয়লেট ব্যবহার করার পর ঠিকমতো পরিষ্কার না করলে গন্ধ তৈরি হয়। আবার গোসলের পর বাথরুমে ভালো করে পানি না দিলে অনেক সময় সেখান থেকেও গন্ধ আসতে পারে। আর যদি বাথরুমে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা না থাকে,তাহলে তো গন্ধ হবেই। তাই সম্ভব হলে বাথরুমে এক্সহস্ট ফ্যান বা ছোট ফ্যান লাগানো ভালো।বাথরুম সব সময় পরিষ্কার রাখার অভ্যাস করা খুব জরুরি,না হলে গন্ধ হবেই। প্রতিবার ব্যবহার করার পর পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া উচিত। তারপর সুযোগ থাকলে দরজা-জানালা কিছুক্ষণ খোলা রাখুন,এতে বাতাস ঢুকে ভ্যাপসা গন্ধ দূর হয়। যদি বাথরুমে বেসিন থাকে,সেটাও নিয়মিত পরিষ্কার রাখা দরকার। অনেক সময় বেসিন বা ড্রেনের মুখে চুল আর ময়লা জমে গন্ধ তৈরি করে,তাই এই দিকটাও খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন ঃ  কাপড় শুকাতে দেরি হলে কোন ধরণের রোদে রাখলে দ্রুত শুকায়।

বাজারে অনেক ধরনের সুগন্ধি পাওয়া যায়,যেগুলো বাথরুমে ঝুলিয়ে রাখলে খারাপ গন্ধ কমে যায়। অনেকেই এগুলো ব্যবহার করেন। এছাড়া বেকিং সোডাও বেশ কাজে লাগে। একটি বাটিতে একটু বেকিং সোডা রেখে দিলেই বাথরুমের ভ্যাপসা গন্ধ অনেকটা কমে যায়। আপনি চাইলে লেবুর রস আর ভিনেগার মিশিয়ে তাতে একটু পানি দিয়ে স্প্রে বোতলে ভরে রাখতে পারেন,এরপর মাঝে মাঝে বাথরুমে স্প্রে করলে গন্ধ দূর হয়। আর বাথরুমের এক কোণে সামান্য এসেনশিয়াল অয়েল রেখে দিলেও ভালো গন্ধ থাকে এবং স্যাঁতস্যাঁতে গন্ধ কমে যায়।এছাড়া ব্লিচিং পাউডার বা ফিনাইল ব্যবহার করলেও ভালো ফল পাওয়া যায়। সপ্তাহে একবার এগুলো ব্যবহার করলে বাথরুম জীবাণুমুক্ত থাকে এবং দুর্গন্ধ কমে।নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা আর একটু যত্ন নিলেই বাথরুমের মাটির গন্ধ সহজেই দূর করা সম্ভব।

বাথরুমে স্যাঁতস্যাঁতে গন্ধ কেন হয়

বাড়ির বাথরুম থেকে মাটির গন্ধ উঠলে কী দিলে বন্ধ হয়।চুল,সাবানের ময়লা,টুথপেস্টের অংশ বা ছোট ছোট জিনিস অনেক সময় বাথরুমের পাইপ আর ড্রেনে আটকে যায়। এগুলো ধীরে ধীরে পচে গিয়ে সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করে। বিশেষ করে নিয়মিত পরিষ্কার না করলে এই সমস্যাটা বেশি হয়। আবার অনেক সময় পাইপ বা পানির লাইনে লিকেজ থাকলেও গন্ধ হতে পারে। তাই এমন হলে আগে লিকেজ আছে কি না দেখে ঠিক করে নিতে হবে। এছাড়া বাথরুমের মেঝের ঢাল ঠিক না থাকলে পানি ঠিকভাবে ড্রেনে যায় না,এক জায়গায় জমে থাকে। তখন সেখানে পোকামাকড় বা ফাঙ্গাস জন্মায়,আর সেখান থেকেই খারাপ গন্ধ তৈরি হয়।

বাথরুমে স্যাঁতস্যাঁতে গন্ধ হওয়ার প্রধান কারণ হলো সেখানে সব সময় আর্দ্রতা বেশি থাকা। গোসলের পানি,ভেজা মেঝে আর ঠিকমতো বাতাস চলাচল না থাকার কারণে বাথরুম দ্রুত শুকাতে পারে না। এতে করে দেয়াল,মেঝে বা কোণায় ফাঙ্গাস বা ছত্রাক জন্মাতে শুরু করে,যা থেকে এক ধরনের ভ্যাপসা গন্ধ বের হয়। এছাড়া ড্রেনে ময়লা জমে থাকলেও বা পানি ঠিকমতো না নামলেও গন্ধ হতে পারে। অনেক সময় বাথরুমে জানালা না থাকা বা এক্সহস্ট ফ্যান না থাকায় ভেতরের বাতাস আটকে থাকে,এতে গন্ধ আরও বেশি লাগে। তাই বাথরুম শুকনো রাখা,নিয়মিত পরিষ্কার করা আর বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখলেই এই স্যাঁতস্যাঁতে গন্ধ অনেকটাই কমানো যায়।

যথেষ্ট ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা রাখুন

বাড়ির বাথরুম থেকে মাটির গন্ধ উঠলে কী দিলে বন্ধ হয়।যদি বাথরুমে জানালা,এক্সহস্ট ফ্যান বা বাতাস চলাচলের কোনো ব্যবস্থা না থাকে,তাহলে ভেতরের বাতাস বের হতে পারে না। ফলে ভেতরে সবসময় ভেজা ভাব থেকে যায়। এই কারণেই গন্ধ দীর্ঘক্ষণ থাকে এবং বাথরুমে ঢুকলে দমবন্ধ লাগার মতো পরিবেশ তৈরি হয়।বাথরুমের জানলাটা যতটা সম্ভব খোলা রাখার চেষ্টা করুন। সারাক্ষণ না হলেও দিনে কিছু সময় খুলে রাখলেই হবে। এতে ভেতরের গন্ধ কমে যাবে আর বাথরুমে বাতাস চলাচলও ঠিক থাকবে।বাথরুমে যদি ঠিকমতো বাতাস না চলতে পারে,তাহলে দুর্গন্ধ জমে থাকে। তাই চেষ্টা করুন,বাথরুমে এক্সস্ট ফ্যান লাগাতে,না হলে সাধারণ ফ্যানও বসাতে পারেন। আর নিয়মিত বাথরুম পরিষ্কার করা খুব জরুরি। বাথরুম ব্যবহারের পর পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে দিন এবং জানালা-দরজা খুলে রাখুন। এতে বাতাস চলাচল করবে আর ভ্যাপসা গন্ধ চলে যাবে।

বাড়ির বাথরুম থেকে মাটির গন্ধ উঠলে কী দিলে বন্ধ হয়।বাথরুমে ভালোভাবে বাতাস চলাচল করা খুব জরুরি। যদি যথেষ্ট ভেন্টিলেশন না থাকে,তাহলে আর্দ্রতা জমে থাকে এবং দুর্গন্ধ দীর্ঘসময় ধরে থাকে। এজন্য বাথরুমে একটি এক্সস্ট ফ্যান বসানো ভালো,আর যদি সেটা সম্ভব না হয়,তবে জানালা বা ছোট ফ্যানের মাধ্যমে বাতাস চলাচল নিশ্চিত করুন। নিয়মিত জানালা খুলে রাখা,ফ্যান চালানো এবং বাতাসকে বের হওয়ার সুযোগ দেওয়াই বাথরুমের গন্ধ দূর করার সবচেয়ে সহজ উপায়।জানালা খুলে রাখা বা এক্সহস্ট ফ্যান ব্যবহার করলে ভেতরের স্যাঁতস্যাঁতে ভাব কমে যায়,ফলে গন্ধও থাকে না।

বেকিং সোডা ও ভিনেগার ব্যবহার করুন

বাড়ির বাথরুম থেকে মাটির গন্ধ উঠলে কী দিলে বন্ধ হয়।ড্রেন পরিষ্কার করতে সহজ একটা উপায় হলো:প্রথমে পাইপে কিছু বেকিং সোডা ঢেলে দিন,তারপর এর উপর সাদা ভিনেগার দিন। কিছুক্ষণের মধ্যে ফেনা উঠতে শুরু করবে। কয়েক মিনিট রাখার পর গরম পানি ঢালুন,এতে পাইপের জমে থাকা ময়লা বের হয়ে যাবে। এছাড়া চাইলে একটি স্প্রে বোতলে লেবুর রস,এক চামচ বেকিং সোডা এবং কিছু পানি মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি বাথরুমের দেয়াল,টাইলস এবং বেসিনে ছিটিয়ে দিন। কয়েক মিনিটের পর ভালোভাবে মুছে ফেলুন,এতে বাথরুমের গন্ধ কমে যাবে এবং সতেজ থাকবে।

বাড়ির-বাথরুম-থেকে-মাটির-গন্ধ-উঠলে-কী-দিলে-বন্ধ-হয়

বাড়ির বাথরুম থেকে মাটির গন্ধ উঠলে কী দিলে বন্ধ হয়।লেবুর রসের সঙ্গে ভিনেগার মিশিয়ে,একটু পানি যোগ করে একটি স্প্রে বোতলে রাখুন। মাঝে মাঝে এই মিশ্রণটি বাথরুমে ছিটিয়ে দিন। এই পদ্ধতিতেও বাথরুমের দুর্গন্ধ কমে যাবে। এছাড়া বাথরুমের কোনো এক কোণে একটি ছোট পাত্রে কিছুটা এসেনশিয়াল অয়েল রাখুন। এর সুগন্ধ মনকে সতেজ রাখবে এবং বাথরুমের ভ্যাপসা বা স্যাঁতস্যাঁতে গন্ধও দূর করবে।

​বাথরুম নিয়মিত পরিষ্কার করুন

বাড়ির বাথরুম থেকে মাটির গন্ধ উঠলে কী দিলে বন্ধ হয়।প্রথমেই বাথরুম পরিষ্কার রাখা খুব জরুরি। সপ্তাহে অন্তত ২–৩ দিন ভালোভাবে ফ্লোর,ড্রেন এবং কোণাগুলো পরিষ্কার করতে হবে। ড্রেনের মধ্যে জমে থাকা ময়লা বা চুল পরিষ্কার না করলে সেখান থেকেই দুর্গন্ধ তৈরি হয়।শৌচাগার ব্যবহার করার পর যদি ঠিকমতো পরিষ্কার না করা হয়,তাহলে দুর্গন্ধ তৈরি হয়। একইভাবে,গোসল করার পরও বাথরুমে ভালোভাবে পানি না দিলে দুর্গন্ধ থেকে যায়। তাই শুধু পরিষ্কার রাখলেই হবে না,কিছু সহজ টিপস মানলে এই সব গন্ধ খুব দ্রুত দূর করা যায়।

নিমের পাতা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল কাজ করে। তাই বাথরুমে কিছু নিম পাতা ঝুলিয়ে দিতে পারেন বা পানির সঙ্গে নিম তেল মিশিয়ে মেঝে ধুয়ে ফেলতে পারেন। এতে ব্যাকটেরিয়া মারা যাবে এবং দুর্গন্ধও কমবে। কফি ব্যবহারের মাধ্যমেও দুর্গন্ধ দূর করা যায়। একটি ছোট পাত্রে কিছু কফি বিন বা শুকনো চা পাতা রেখে দিন এবং কয়েক দিন পরপর এগুলো বদলান। আরও একটি উপায় হলো,কিছু নারকেল তেল গরম করে তাতে ৪-৫টি লবঙ্গ মিশিয়ে ঠান্ডা হওয়ার পর পানি দিয়ে স্প্রে বোতলে ভরে বাথরুমে ছিটিয়ে দিন। এছাড়া আপনার পছন্দের মোম,নারকেল তেল ও এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে বাড়িতে সুগন্ধি মোমবাতি বানাতে পারেন। এতে বাথরুমে সব সময় সুগন্ধ থাকবে।

ব্লিচিং পাউডার বা ফিনাইল ব্যবহার করুন

বাড়ির বাথরুম থেকে মাটির গন্ধ উঠলে কী দিলে বন্ধ হয়।কমোডের দুর্গন্ধ দূর করতে এবং এটি নতুনের মতো সাদা করতে ব্লিচিং পাউডার বা ফিনাইল খুব কাজে লাগে। প্রথমে কমোডটি ফ্লাশ করে নিন। তারপর কিছুটা ব্লিচিং পাউডার বা ফিনাইল ছিটিয়ে দিন। প্রায় ১ ঘণ্টা রাখার পর আবার ফ্লাশ করুন। এতে শুধু দাগই চলে যাবে না,কমোডের দুর্গন্ধও দূর হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন ঃ সবজি ফ্রিজে রাখার আগে জানুন,সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতি।

বাড়ির বাথরুম থেকে মাটির গন্ধ উঠলে কী দিলে বন্ধ হয়।বাথরুমের দুর্গন্ধ দূর করার জন্য ফিনাইলও খুব কার্যকর। নিয়মিত ফিনাইল দিয়ে বাথরুম ধুলে দুর্গন্ধ অনেক কমে যাবে। চাইলে ফিনাইলের পানিতে একটু লেবুর রস মিশিয়ে দিতে পারেন, এতে গন্ধ আরও তাজা হয়ে যাবে।

লেবু বা সুগন্ধি ক্লিনারও ব্যবহার করতে পারেন

বাড়ির বাথরুম থেকে মাটির গন্ধ উঠলে কী দিলে বন্ধ হয়।বাথরুমের মেঝে ও কমোডে লেবুর রস ছড়িয়ে দিয়ে দরজা বন্ধ রাখুন। এক ঘন্টা পর ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন দুর্গন্ধ চলে গেছে।লেবুর রস আর ভিনেগার মিশিয়ে একটু পানি দিয়ে স্প্রে বোতলে রাখুন। মাঝে মাঝে বাথরুমে এই মিশ্রণ ছিটিয়ে দিন। এতে বাথরুমের ভ্যাপসা গন্ধ কমে যাবে। এছাড়া, একটি পাত্রে কিছুটা এসেনশিয়াল অয়েল রাখলেই তার সুগন্ধ ভ্যাপসা ও বোঁটকা গন্ধ দূর করবে। যদি তবুও সমস্যা থাকে,দিনে কয়েক ঘণ্টার জন্য অ্যারোমা ক্যান্ডেল জ্বালিয়ে রাখলেই গন্ধ কমে যাবে।

বাড়ির বাথরুম থেকে মাটির গন্ধ উঠলে কী দিলে বন্ধ হয়।অনেকেই বাথরুমে তোয়ালে রাখেন। তবে তোয়ালে ভেজা হলে সঙ্গে সঙ্গে বদলিয়ে ফেলুন। বাথরুমে ভেজা তোয়ালে রাখলে ব্যাকটেরিয়া জন্মায় আর দুর্গন্ধও হয়।বাথরুমে ছোট একটি সুগন্ধি মোমবাতি রাখতে পারেন। এটি বাথরুমকে সুন্দর দেখাবে এবং দুর্গন্ধও কমাবে। তবে খুব তীব্র গন্ধের মোমবাতি ব্যবহার করা ঠিক হবে না।

বাথরুমে বাতাস চলাচল ঠিক রাখতে এক্সজস্ট ফ্যান ব্যবহার

বাড়ির বাথরুম থেকে মাটির গন্ধ উঠলে কী দিলে বন্ধ হয়।বাথরুমে যদি ভালোভাবে বাতাস চলাচল করতে না পারে, তখন দুর্গন্ধ জমে থাকে। তাই সম্ভব হলে একটি এক্সস্ট ফ্যান লাগান। এতে বাতাস চলবে এবং বাথরুমের দুর্গন্ধ কমবে।বাথরুমে যদি বাতাস ঠিকভাবে চলাচল করতে না পারে, তখন দুর্গন্ধ জমে থাকে। তাই চেষ্টা করুন,বাথরুমে এক্সস্ট ফ্যান বসান। যদি সেটা সম্ভব না হয়, সাধারণ ফ্যান দিয়েও সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।বাড়ির বাথরুম থেকে মাটির গন্ধ উঠলে কী দিলে বন্ধ হয়।যখন বাথরুমের জানালা খুলবেন, তখন ফ্যান চালু রাখুন আর দরজাও খোলা রাখুন। এতে বাতাস সহজে চলাচল করবে এবং বাথরুম দ্রুত এয়ার ভ্যান্টিলেশনের কাজ করবে ও পরিষ্কার হয়ে যাবে।

বাথরুমে যদি ঠিকমতো বাতাস চলাচল না করে,তবে সেখানে ভ্যাপসা বা দুর্গন্ধ তৈরি হতে থাকে। এজন্য বাথরুমে এক্সজস্ট ফ্যান ব্যবহার করা খুবই জরুরি। এক্সজস্ট ফ্যান বাথরুমের ভেতরের ভেজা ও গন্ধ বের করে বাইরে পাঠায় এবং নতুন বাতাস ঢুকতে সাহায্য করে। এতে শুধু দুর্গন্ধ কমে না, বরং আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়া জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনাও কমে। বিশেষ করে ছোট বাথরুমে বা জানালা না থাকা বাথরুমে এক্সজস্ট ফ্যান লাগানো অনেক উপকারী। নিয়মিত ফ্যান ব্যবহার করলে বাথরুম সবসময় তাজা ও স্বস্তিদায়ক থাকবে।

বেসিন পরিষ্কার রাখুন নিয়মিত

বাড়ির বাথরুম থেকে মাটির গন্ধ উঠলে কী দিলে বন্ধ হয়।বাথরুমের বেসিনও পরিষ্কার রাখা খুবই জরুরি। অনেক সময় বেসিন বা নালার মুখে চুল,ময়লা জমে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে। তাই সেখানেও খেয়াল রাখুন। চাইলে বাথরুমে পকেট এয়ারফ্রেশনার টাঙিয়ে রাখতে পারেন। আরেকটি উপায় হলো,একটি বাটিতে একটু বেকিং সোডা রেখে দেওয়া। এতে ভ্যাপসা গন্ধ কেটে যাবে।

বাড়ির-বাথরুম-থেকে-মাটির-গন্ধ-উঠলে-কী-দিলে-বন্ধ-হয়

বাথরুমে বেসিন বা ওয়াশবেসিন নিয়মিত পরিষ্কার রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় বেসিনের নালার মুখে চুল, সাবানের ছাই বা ময়লা জমে যায়। ধীরে ধীরে এসব ময়লা পচে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে। তাই প্রতিদিন বেসিন পরিষ্কার করতে হবে, বিশেষ করে নালা ও সরোবরের অংশগুলো ভালোভাবে ধুতে হবে। এছাড়া কিছুদিন অন্তর বেকিং সোডা বা ভিনেগার দিয়ে নালার মুখ পরিষ্কার করলে চুলকানি বা দুর্গন্ধ কমে। বেসিন ঠিকভাবে পরিষ্কার রাখলে শুধু দুর্গন্ধ কমবে না, বরং বাথরুমও স্বাস্থ্যকর থাকবে।

এয়ার ফ্রেশনার ব্যবহার করতে পারেন

বাড়ির বাথরুম থেকে মাটির গন্ধ উঠলে কী দিলে বন্ধ হয়।বাথরুমের দুর্গন্ধ সহজে দূর করতে রুম ফ্রেশনার ব্যবহার করতে পারেন। যেই রুম ফ্রেশনার আপনি ঘরে ব্যবহার করেন,সেটিই বাথরুমেও ব্যবহার করা যাবে। হালকা করে স্প্রে করে দিন,দেখবেন কিছুক্ষণ পরেই দুর্গন্ধ চলে যাবে।বাথরুমে দুর্গন্ধ কমাতে সুগন্ধি মোম জ্বালিয়ে রাখতে পারেন। এতে বাথরুম সবসময় তাজা এবং সুগন্ধযুক্ত থাকবে। তবে মোম জ্বালানোর সময় সাবধান থাকুন, কারণ অসাবধান হলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বাথরুমের তোয়ালে বা অন্য জিনিস মোমের কাছে রাখবেন না।

বাড়ির বাথরুম থেকে মাটির গন্ধ উঠলে কী দিলে বন্ধ হয়।কিছু বাঁশের টুকরা নিন। এরপর এগুলো ভালোভাবে আগুনে পুড়িয়ে নিন। তারপর একটি কাঁচের পাত্রে রেখে বাথরুমের কোনায় রাখুন। এতে বাথরুমের দুর্গন্ধ দূর হবে এবং বাথরুমে তাজা ও সতেজ গন্ধ থাকবে।বাথরুমে বাজারে পাওয়া সুগন্ধি টাঙিয়ে রাখতে পারেন। অনেকে এভাবে করেন।বাজারে অনেক ধরনের সুগন্ধি পাওয়া যায়, যা বাথরুমে ঝুলিয়ে রাখলে দুর্গন্ধ কমিয়ে দেয়। আপনার পছন্দের এয়ার ফ্রেশনার বাথরুমে টাঙিয়ে দিন,এতে বাথরুমটা সুগন্ধি ও সতেজ থাকবে। এছাড়া একটি ছোট বাটিতে কিছুটা বেকিং সোডা রেখে দিন। এতে বাথরুমের ভ্যাপসা গন্ধ অনেকটাই কমে যাবে।

পানি দিয়ে নিয়মিত বাথরুম পরিষ্কার করুন

বাড়ির বাথরুম থেকে মাটির গন্ধ উঠলে কী দিলে বন্ধ হয়।বাথরুম নিয়মিত পরিষ্কার করার অভ্যাস রাখতে হবে,নাহলে দুর্গন্ধ ধরে থাকে। টয়লেট ব্যবহার করার পর অবশ্যই পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। তারপর সম্ভব হলে জানালা ও দরজা খুলে দিন, এতে বাতাস চলবে এবং ভ্যাপসা গন্ধ কেটে যাবে।অনেক সময় আমরা বাথরুম পরিষ্কারের কথা ভুলে যাই। কিন্তু স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে হলে বাথরুম নিয়মিত পরিষ্কার করা খুবই জরুরি। ভিনেগার, লেবু বা বেকিং সোডার মতো সহজ জিনিস ব্যবহার করে খুব সহজেই বাথরুম পরিষ্কার ও দুর্গন্ধমুক্ত রাখা যায়। পাশাপাশি বাথরুমের টাইলসও নিয়মিত ধুয়ে পরিষ্কার রাখা উচিত।

আরও পড়ুন ঃ  অতিরিক্ত চুল পড়া বন্ধ ও ঘন করার ঘরোয়া উপায়।

প্রতিবার বাথরুম ব্যবহার করার পর পানি ঢেলে টয়লেট,মেঝে,বেসিন সব জায়গা ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। এতে ময়লা জমে থাকা,ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি বা দুর্গন্ধ হওয়ার সমস্যা কমে যায়। নিয়মিত পানি দিয়ে পরিষ্কার রাখলে বাথরুম সব সময় সতেজ থাকে এবং দুর্গন্ধও দূর থাকে। এছাড়া কখনো কখনো পানি দিয়ে ধোয়ার সময় কিছুটা ডিটারজেন্ট বা লেবুর রস মিশিয়ে দিলে আরও ভালো পরিষ্কার হবে।

শেষ কথাঃবাড়ির বাথরুম থেকে মাটির গন্ধ উঠলে কী দিলে বন্ধ হয়।

বাথরুমে যেন কোনো দুর্গন্ধ না থাকে,তার জন্য কিছু বিষয় খেয়াল রাখা দরকার। যেমন,টয়লেট ব্যবহার করার পর ঠিকমতো পরিষ্কার না করলে গন্ধ তৈরি হয়। আবার গোসলের পর বাথরুমে ভালো করে পানি না দিলে অনেক সময় সেখান থেকেও গন্ধ আসতে পারে। আর যদি বাথরুমে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা না থাকে,তাহলে তো গন্ধ হবেই। তাই সম্ভব হলে বাথরুমে এক্সহস্ট ফ্যান বা ছোট ফ্যান লাগানো ভালো।বাথরুম সব সময় পরিষ্কার রাখার অভ্যাস করা খুব জরুরি,না হলে গন্ধ হবেই। প্রতিবার ব্যবহার করার পর পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া উচিত। তারপর সুযোগ থাকলে দরজা-জানালা কিছুক্ষণ খোলা রাখুন,এতে বাতাস ঢুকে ভ্যাপসা গন্ধ দূর হয়। যদি বাথরুমে বেসিন থাকে,সেটাও নিয়মিত পরিষ্কার রাখা দরকার। অনেক সময় বেসিন বা ড্রেনের মুখে চুল আর ময়লা জমে গন্ধ তৈরি করে,তাই এই দিকটাও খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

বাজারে অনেক ধরনের সুগন্ধি পাওয়া যায়,যেগুলো বাথরুমে ঝুলিয়ে রাখলে খারাপ গন্ধ কমে যায়। অনেকেই এগুলো ব্যবহার করেন। এছাড়া বেকিং সোডাও বেশ কাজে লাগে। একটি বাটিতে একটু বেকিং সোডা রেখে দিলেই বাথরুমের ভ্যাপসা গন্ধ অনেকটা কমে যায়। আপনি চাইলে লেবুর রস আর ভিনেগার মিশিয়ে তাতে একটু পানি দিয়ে স্প্রে বোতলে ভরে রাখতে পারেন,এরপর মাঝে মাঝে বাথরুমে স্প্রে করলে গন্ধ দূর হয়। আর বাথরুমের এক কোণে সামান্য এসেনশিয়াল অয়েল রেখে দিলেও ভালো গন্ধ থাকে এবং স্যাঁতস্যাঁতে গন্ধ কমে যায়।এছাড়া ব্লিচিং পাউডার বা ফিনাইল ব্যবহার করলেও ভালো ফল পাওয়া যায়। সপ্তাহে একবার এগুলো ব্যবহার করলে বাথরুম জীবাণুমুক্ত থাকে এবং দুর্গন্ধ কমে।নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা আর একটু যত্ন নিলেই বাথরুমের মাটির গন্ধ সহজেই দূর করা সম্ভব।

একটা মানুষের পরিচয় অনেকটাই বোঝা যায় তার বাথরুম দেখে। আমরা সাধারণত ঘর সাজানো বা পরিষ্কার করতে ব্যস্ত থাকি, কিন্তু বাথরুমের যত্ন তেমন নিই না। কিন্তু বাথরুম পরিষ্কার ও দুর্গন্ধমুক্ত রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কখনও কখনও যত পরিষ্কার করলেও বাথরুম থেকে দুর্গন্ধ কমতে চায় না। তবে ঘরোয়া কিছু সহজ উপায়ে এই দুর্গন্ধ দূর করা সম্ভব।এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য অনেক ধন্যবাদ। যদি এমন গুরুত্বপূর্ণ ও তথ্যপূর্ণ আর্টিকেল আরও পড়তে চান,তাহলে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইট দেখার চেষ্টা করুন। আমরা আমাদের সাইটে নিয়মিত স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য শেয়ার করি। আশা করি এগুলো আপনার জন্য খুবই কাজে লাগবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Md. Asadul Islam
Md. Asadul Islam
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও অ্যাডমিন। তিনি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।