মাথার পাঁকা চুল তোলা কি জায়েজ?

মাথার পাকা চুল দেখা গেলে অনেকেই চিন্তায় পড়ে যান এবং তা তুলে ফেলেন।কিন্তু অনেকের মনে প্রশ্ন আসে,ইসলাম অনুযায়ী পাকা চুল তোলা কি জায়েজ?

                                        

মাথার পাঁকা চুল তোলা কি জায়েজ

তাই পাকা চুল তোলা জায়েজ কি না,এ বিষয়টি জানা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়টি সঠিকভাবে জানা জরুরি।

পেজ সূচিপএঃমাথার পাঁকা চুল তোলা কি জায়েজ? বিস্তারিত ভাবে জেনে নিন।

মাথার পাঁকা চুল তোলা কি জায়েজ?

মাথার পাকা চুল তোলা জায়েজ কি না?এ প্রশ্ন অনেকের মনে আসে। ইসলামের দৃষ্টিতে পাকা চুলকে সম্মান ও মর্যাদার চিহ্ন হিসেবে দেখা হয়েছে। হাদিসে উল্লেখ আছে,মুমিন ব্যক্তির পাকা চুল তার জন্য নূর বা আলোস্বরূপ। তাই অকারণে পাকা চুল উপড়ে ফেলা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। অধিকাংশ আলেমের মতে,পাকা চুল তোলা সরাসরি হারাম নয়,তবে এটি মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। অর্থাৎ করলে গুনাহ হবে এমন স্পষ্ট নিষেধ নেই,কিন্তু না করাই উত্তম।

যদি কেউ সৌন্দর্যের কারণে খুব অস্বস্তি বোধ করেন,তাহলে চুল রঙ করা জায়েজ আছে,তবে কালো রঙ ব্যবহার নিয়ে কিছু মতভেদ রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো,কাজটির পেছনে যেন অহংকার বা প্রতারণার মনোভাব না থাকে। সহজভাবে বলতে গেলে, পাকা চুল তোলা পুরোপুরি নিষিদ্ধ নয়,কিন্তু ইসলাম আমাদের স্বাভাবিক বিষয়কে মেনে নিতে ও আল্লাহর দেওয়া অবস্থাকে সম্মান করতে উৎসাহ দেয়।

পাকা চুল তোলা কি হারাম?

পাকা চুল তোলা কি হারাম?এই প্রশ্ন অনেকেই করেন। সহজভাবে বলতে গেলে,অধিকাংশ আলেমের মতে পাকা চুল তোলা সরাসরি হারাম নয়। তবে হাদিসে পাকা চুলকে মুমিনের জন্য নূর বা সম্মানের চিহ্ন বলা হয়েছে,তাই অকারণে তা উপড়ে ফেলাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এ কারণে অনেক আলেম এটাকে মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ বলেছেন,অর্থাৎ না করাই উত্তম।

যদি কেউ এক-দুইটি পাকা চুল তুলে ফেলেন,তাহলে বড় কোনো গুনাহ হবে এমন স্পষ্ট প্রমাণ নেই। তবে অহংকার,লোক দেখানো বা বয়স লুকানোর উদ্দেশ্যে নিয়মিত চুল তোলা ভালো নয়। ইসলাম আমাদের স্বাভাবিক পরিবর্তনগুলো গ্রহণ করতে শিক্ষা দেয়। তাই সহজভাবে বললে,পাকা চুল তোলা হারাম নয়,কিন্তু না করাই ভালো ও বেশি উত্তম।

পাকা চুল নিয়ে হাদিসের কথা

পাকা চুল নিয়ে হাদিসে সুন্দর কথা পাওয়া যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.)বলেছেন,কোনো মুসলিমের মাথা বা দাড়িতে যে পাকা চুল হয়,তা কিয়ামতের দিন তার জন্য নূর (আলো) হবে। অর্থাৎ পাকা চুলকে লজ্জার কিছু না ভেবে সম্মানের চিহ্ন হিসেবে দেখা হয়েছে। আরেক বর্ণনায় এসেছে,পাকা চুল উপড়ে ফেলতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে,কারণ এটি মুমিনের জন্য মর্যাদার নিদর্শন।

সহজভাবে বললে,ইসলাম পাকা চুলকে বয়স,অভিজ্ঞতা ও ইমানের সম্মানের প্রতীক হিসেবে দেখায়। তাই অকারণে তা তুলে না ফেলে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করাই উত্তম। তবে কেউ তুলে ফেললে সে বড় গুনাহগার হয়ে যাবে এমন কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়নি। মূল শিক্ষা হলো,আল্লাহর দেওয়া স্বাভাবিক পরিবর্তনকে সম্মান করা এবং তা নিয়ে হীনমন্যতায় না ভোগা।

পাকা চুল কেন নূরের চিহ্ন বলা হয়

পাকা চুলকে নূরের চিহ্ন বলা হয় কারণ হাদিসে এসেছে,মুমিন ব্যক্তির পাকা চুল কিয়ামতের দিন তার জন্য আলো বা সম্মানের কারণ হবে। এর অর্থ হলো,একজন মানুষ যত বেশি বয়স পায় এবং ইমানের সঙ্গে জীবন কাটায়,তার সেই বয়স ও অভিজ্ঞতা আল্লাহর কাছে মূল্যবান। পাকা চুল আসলে সময়,ধৈর্য,ইবাদত আর জীবনের সংগ্রামের সাক্ষী। তাই এটাকে লজ্জার কিছু না ভেবে মর্যাদার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছে।সহজভাবে বললে,পাকা চুল মানে শুধু বয়স বাড়া নয় এটা একজন মানুষের জীবনের অভিজ্ঞতা ও আল্লাহর পথে চলার নিদর্শন। তাই ইসলাম এটাকে সম্মান দিয়েছে এবং অকারণে তা তুলে ফেলতে নিরুৎসাহিত করেছে।

পাকা চুল তোলা মাকরূহ কি না?

পাকা চুল তোলা মাকরূহ কি না?এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে আলোচনা আছে। অধিকাংশ আলেমের মতে,পাকা চুল তোলা সরাসরি হারাম নয়,তবে মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। কারণ হাদিসে পাকা চুলকে মুমিনের জন্য নূর বা সম্মানের চিহ্ন বলা হয়েছে এবং তা উপড়ে ফেলতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। তাই অকারণে বা সৌন্দর্যের অহংকারে পাকা চুল তুলে ফেলা ভালো নয়।

                                           

মাথার পাঁকা চুল তোলা কি জায়েজ

তবে কেউ যদি এক-দুইটি পাকা চুল তুলে ফেলেন,তাহলে বড় গুনাহ হবে এমন স্পষ্ট কথা নেই। কিন্তু নিয়মিতভাবে পাকা চুল উপড়ে ফেলা ইসলামের দৃষ্টিতে উত্তম কাজ নয়। সহজভাবে বলতে গেলে,পাকা চুল তোলা হারাম না হলেও না করাই ভালো এবং বেশি সওয়াবের কাজ।

ইসলামি শরিয়তে পাকা চুল উপড়ানো

ইসলামি শরিয়তে পাকা চুল উপড়ানো সরাসরি হারাম বলা হয়নি,তবে এ বিষয়ে সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। হাদিসে উল্লেখ আছে,মুমিনের পাকা চুল তার জন্য নূর বা সম্মানের চিহ্ন। তাই অকারণে পাকা চুল উপড়ে ফেলতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। অনেক আলেমের মতে,এটি মাকরূহ,অর্থাৎ না করাই উত্তম ও ভালো। কারণ পাকা চুল বয়স,অভিজ্ঞতা ও আল্লাহর পথে কাটানো সময়ের প্রতীক।

তবে কেউ যদি এক-দুইটি পাকা চুল তুলে ফেলেন,তাহলে সে বড় গুনাহগার হয়ে যাবে এমন স্পষ্ট বিধান নেই। ইসলাম আমাদের স্বাভাবিক পরিবর্তনকে মেনে নিতে ও অহংকার থেকে দূরে থাকতে শিক্ষা দেয়। সহজভাবে বলতে গেলে,পাকা চুল উপড়ানো পুরোপুরি নিষিদ্ধ নয়,কিন্তু না করাই শরিয়তের দৃষ্টিতে বেশি ভালো ও সম্মানজনক।

পাকা চুল রঙ করা জায়েজ কি না?

পাকা চুল রঙ করা ইসলামি দৃষ্টিতে সাধারণত জায়েজ। অনেক আলেমের মতে,পাকা চুল ঢাকার জন্য বা সৌন্দর্য বজায় রাখার জন্য রঙ করা করা যায়। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে,কালো রঙ ব্যবহার নিয়ে কিছু মতভেদ আছে। কেউ যদি উদ্দেশ্য হয় অন্যকে প্রতারিত করা বা বয়স লুকানো,তবে তা ভালো নয়। অনেক সময় হালকা রঙ বা মেহেদি ব্যবহার করা ইসলামে নিরাপদ মনে করা হয়।

সহজভাবে বললে,পাকা চুল রঙ করা জায়েজ,তবে উদ্দেশ্য সৎ হওয়া উচিত। ইসলাম আমাদের শেখায়,সৌন্দর্য বজায় রাখা ঠিক,কিন্তু অহংকার বা মিথ্যা প্রভাবের জন্য চুল রঙ করা উচিত নয়। তাই নিরাপদ রঙ ব্যবহার করলে ও উদ্দেশ্য সৎ রাখলে চুল রঙ করা কোনো সমস্যা নেই।

কালো রঙ ব্যবহার করা ঠিক কি না?

কালো রঙ দিয়ে চুল রঙ করা নিয়ে ইসলামি মতের মধ্যে কিছু ভিন্নতা আছে। অনেক আলেম বলেন,কালো রঙ ব্যবহার করা ঠিক নয়,বিশেষ করে যদি উদ্দেশ্য হয় বয়স লুকানো বা অন্যকে প্রতারিত করা। তবে হালকা রঙ,মেহেদি বা স্বাভাবিক রঙ ব্যবহার করা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জায়েজ। মূল বিষয় হলো,চুল রঙ করার উদ্দেশ্য সৎ ও ন্যায্য হওয়া উচিত সৌন্দর্য বজায় রাখা ঠিক,কিন্তু অহংকার বা মিথ্যা উদ্দেশ্য নয়।

সহজভাবে বললে,কালো রঙ ব্যবহার না করলেও অন্য নিরাপদ রঙ ব্যবহার করে পাকা চুল ঢাকার উপায় রয়েছে। ইসলাম আমাদের শেখায়,আমাদের কাজের উদ্দেশ্য সৎ থাকা উচিত এবং আল্লাহর দেওয়া স্বাভাবিক পরিবর্তনকে সম্মান করা উচিত।

সৌন্দর্যের জন্য পাকা চুল তোলা

অনেকে সৌন্দর্য বা নিজের চেহারা ভালো দেখানোর জন্য পাকা চুল তুলে ফেলেন। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে এটি ভালো কাজ নয়। হাদিসে বলা হয়েছে,পাকা চুল মুমিনের জন্য নূর বা সম্মানের চিহ্ন,তাই অকারণে তা উপড়ে ফেলা নিরুৎসাহিত। সৌন্দর্যের জন্য পাকা চুল তুলে ফেলা অহংকার বা মিথ্যা ভাবনার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে,যা ইসলামে সমর্থিত নয়।

সহজভাবে বলতে গেলে,পাকা চুলকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা এবং সৌন্দর্যের জন্য অকারণে তা না তোলা উত্তম। এতে শরীর ও মানসিকভাবে কোনো ক্ষতি হয় না এবং ইসলামি দৃষ্টিতেও সঠিক পথ অনুসরণ হয়।

পাকা চুল রাখার ফজিলত

পাকা চুল রাখারও ইসলামি দৃষ্টিতে ফজিলত আছে। হাদিসে এসেছে,মুমিন ব্যক্তির পাকা চুল কিয়ামতের দিন তার জন্য নূর বা আলোর উৎস হবে। অর্থাৎ পাকা চুল শুধু বয়সের চিহ্ন নয়,এটি একজন মানুষের জীবনের অভিজ্ঞতা,ধৈর্য ও আল্লাহর পথে কাটানো সময়ের প্রতীক। পাকা চুল অকারণে তুলে ফেলা বা লুকানো না করে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করলে এটি ইবাদতের দৃষ্টিতে সওয়াবের কাজ হিসাবেও গণ্য হতে পারে।

                                       

মাথার পাঁকা চুল তোলা কি জায়েজ

সহজভাবে বলতে গেলে,পাকা চুল রাখার মানে হলো আল্লাহর দেওয়া পরিবর্তনকে সম্মান করা,অভিজ্ঞতা ও বয়সকে গর্বের সঙ্গে গ্রহণ করা এবং মুমিন হিসেবে মর্যাদা বজায় রাখা। তাই পাকা চুলকে সম্মান করে রাখা অনেক ভালো।

শেষ কথাঃ মাথার পাঁকা চুল তোলা কি জায়েজ?

মাথার পাকা চুল তোলা ইসলামের দৃষ্টিতে সরাসরি হারাম নয়,তবে অকারণে তা উপড়ে ফেলা মাকরূহ বা অপছন্দনীয়। হাদিসে পাকা চুলকে মুমিনের জন্য নূর বা সম্মানের চিহ্ন বলা হয়েছে,তাই অহংকার বা সৌন্দর্যের কারণে অযথা তুলে ফেলা ভালো নয়। পাকা চুল রঙ করা জায়েজ,তবে কালো রঙ ব্যবহার বা অন্যকে প্রতারিত করার উদ্দেশ্য এড়িয়ে চলা উচিত।

পাকা চুল তোলা নিয়ে সচেতন থাকা আমাদের জন্য ভালো। অনেক সময় মানুষ পাকা চুল দেখে চিন্তিত হয়ে ওঠে বা সৌন্দর্যের কারণে তা তুলে ফেলে। কিন্তু ইসলাম শেখায়,আমাদের শরীর ও বয়সের স্বাভাবিক পরিবর্তনকে সম্মান করতে হবে। পাকা চুল শুধু বয়স বা অভিজ্ঞতার চিহ্ন নয়,এটি মুমিনের জন্য নূর বা মর্যাদার প্রতীক। তাই অহংকার বা অযথা সৌন্দর্যের জন্য চুল তোলা থেকে বিরত থাকা উচিত।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Md. Asadul Islam
Md. Asadul Islam
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও অ্যাডমিন। তিনি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।