ঘুমের মধ্যে লালা ঝরে কেন?কোন রোগের লক্ষণ নাকি স্বাভাবিক সমস্যা?
ঘুমের মধ্যে লালা ঝরা অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর একটি বিষয়। সকালে উঠে বালিশ ভেজা দেখলে অনেকেই চিন্তায় পড়ে যান,এটা কি কোনো বড় রোগের লক্ষণ?আসলে সব সময় বিষয়টি গুরুতর কিছু নয়।
চলুন আজকের আর্টিকেলটিতে বিস্তারিতভাবে জেনে নিই ঘুমের মধ্যে লালা ঝরে কেন?কোন রোগের লক্ষণ নাকি স্বাভাবিক সমস্যা?এর প্রতিকারই বা কী?চলুন সহজ ভাষায় পুরো বিষয়টি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জেনে নিই।
পেজ সূচিপএঃঘুমের মধ্যে লালা ঝরে কেন?বিস্তারিতভাবে জেনে নিন।
- ঘুমের মধ্যে লালা ঝরে কেন?
- লালা কেন ঝরে?
- রাতে কেন লালা বেশি ঝরে?
- লালা ঝরা কোন রোগের লক্ষণ?
- কোন কোন কারণে লালা বেশি ঝরতে পারে?
- শিশুদের ঘুমের মধ্যে লালা পড়া স্বাভাবিক কি না?
- ঘুমের ভঙ্গির কারণে লালা পড়া
- লালা ঝরার সমস্যা প্রতিকারের ঘরোয়া উপায় জেনে নিন।
- কখন ডাক্তার দেখাবেন?
- শেষ কথাঃঘুমের মধ্যে লালা ঝরে কেন?কোন রোগের লক্ষণ নাকি স্বাভাবিক সমস্যা?
ঘুমের মধ্যে লালা ঝরে কেন?
ঘুমের মধ্যে লালা ঝরে মূলত তখনই,যখন আমরা ঘুমের সময় লালা ঠিকমতো গিলতে পারি না। ঘুমালে মুখের পেশি ঢিলে হয়ে যায়,আর যদি মুখ একটু খোলা থাকে তাহলে লালা সহজেই বাইরে বের হয়ে আসে। যারা পাশ ফিরে ঘুমান বা নাক বন্ধ থাকায় মুখ দিয়ে শ্বাস নেন,তাদের ক্ষেত্রে এটি বেশি দেখা যায়। অনেক সময় গভীর ঘুম বা অতিরিক্ত ক্লান্তির কারণেও লালা ঝরতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি স্বাভাবিক বিষয়,তবে যদি প্রতিদিন খুব বেশি হয় বা অন্য সমস্যা থাকে,তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
লালা কেন ঝরে?
লালা ঝরে কারণ আমাদের মুখে সবসময় লালা তৈরি হয়,যা খাবার হজম করতে ও মুখ ভেজা রাখতে সাহায্য করে। যখন আমরা ঘুমাই বা মুখ ঠিকভাবে বন্ধ রাখতে পারি না,তখন সেই লালা বাইরে বের হয়ে আসে। নাক বন্ধ থাকলে মানুষ মুখ দিয়ে শ্বাস নেয়, এতে লালা বেশি ঝরতে পারে। আবার দাঁত-মাড়ির সমস্যা,গ্যাস্ট্রিক বা সাইনাসের কারণেও লালা বেশি হতে পারে। বেশিরভাগ সময় এটি স্বাভাবিক,তবে খুব বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
রাতে কেন লালা বেশি ঝরে?
রাতে লালা বেশি ঝরে কারণ ঘুমের সময় আমাদের মুখ ও গলার পেশি ঢিলে হয়ে যায়। তখন আমরা সচেতনভাবে লালা গিলতে পারি না,ফলে তা মুখের বাইরে চলে আসে। বিশেষ করে যদি কেউ পাশ ফিরে ঘুমায় বা নাক বন্ধ থাকার কারণে মুখ দিয়ে শ্বাস নেয়, তাহলে লালা আরও বেশি ঝরে। গভীর ঘুম বা বেশি ক্লান্ত থাকলেও এই সমস্যা বাড়তে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি স্বাভাবিক,তবে নিয়মিত অতিরিক্ত হলে কারণ খুঁজে দেখা ভালো।
লালা ঝরা কোন রোগের লক্ষণ?
লালা ঝরা সবসময় রোগের লক্ষণ নয়,তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। যেমন সাইনাস বা টনসিলের সমস্যা থাকলে নাক বন্ধ হয়ে মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে হয়,তখন লালা বেশি ঝরে। গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিড রিফ্লাক্স থাকলেও শরীরে লালা বেশি তৈরি হতে পারে। দাঁত ও মাড়ির ইনফেকশন বা মুখের ঘা থাকলেও এমনটা হয়। তবে যদি লালা ঝরার সাথে কথা জড়িয়ে যাওয়া,গিলতে কষ্ট হওয়া বা মুখ অবশ লাগার মতো লক্ষণ থাকে,তাহলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কোন কোন কারণে লালা বেশি ঝরতে পারে?
লালা বেশি ঝরতে পারে বিভিন্ন কারণে। নাক বন্ধ থাকলে বা সাইনাসের সমস্যা হলে মানুষ মুখ দিয়ে শ্বাস নেয়,তখন লালা বাইরে পড়ে যায়। গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটির সমস্যায় শরীর অতিরিক্ত লালা তৈরি করতে পারে। দাঁত-মাড়ির ইনফেকশন,মুখের ঘা বা দাঁতের ব্যথার কারণেও লালা বাড়তে পারে। আবার গভীর ঘুম,পাশ ফিরে শোয়া বা মুখ খোলা রেখে ঘুমালেও লালা বেশি ঝরতে দেখা যায়।
শিশুদের ঘুমের মধ্যে লালা পড়া স্বাভাবিক কি না?
ছোট বাচ্চাদের ঘুমের মধ্যে লালা পড়া সাধারণত স্বাভাবিক। কারণ তাদের মুখের পেশি পুরোপুরি শক্ত নয় এবং লালা গিলার নিয়ন্ত্রণও কম থাকে।
বিশেষ করে দাঁত ওঠার সময় লালা আরও বেশি হতে পারে। অনেক সময় ঘুমের সময় মুখ খোলা থাকলেও লালা বাইরে পড়ে। সাধারণত বাচ্চারা বড় হওয়ার সাথে সাথে এই সমস্যা কমিয়ে আনে।
ঘুমের ভঙ্গির কারণে লালা পড়া
ঘুমের ভঙ্গিও লালা পড়ার একটি বড় কারণ। যদি কেউ পাশ ফিরে ঘুমায়,তখন মুখ একটু খোলা থাকে এবং লালা সহজেই বাইরে বের হয়ে যায়। চিত হয়ে ঘুমালে তুলনামূলক লালা কম ঝরে। এছাড়া গভীর ঘুমের সময় মুখের পেশি ঢিলে হয়ে যায়,ফলে লালা গিলতে দেরি হয়। তাই ঘুমের ভঙ্গি ঠিক থাকলে লালা পড়ার সমস্যা অনেকটা কমানো যায়।
লালা ঝরার সমস্যা প্রতিকারের ঘরোয়া উপায় জেনে নিন।
লালা ঝরার সমস্যা কমানোর জন্য কিছু সহজ ঘরোয়া উপায় আছে। প্রথমে চিত হয়ে বা সামান্য উঁচু করে ঘুমানো চেষ্টা করুন,যাতে মুখ ঠিকভাবে বন্ধ থাকে। নাক বন্ধ থাকলে চিকিৎসা নিন,যেন শ্বাস নেওয়া সহজ হয়। ঘুমানোর আগে দাঁত ও মুখ পরিষ্কার রাখুন এবং রাতে ভারী খাবার কম খান। এছাড়া গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটি থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখলে লালা ঝরার সমস্যা অনেকটা কমে যায়।
কখন ডাক্তার দেখাবেন?
ডাক্তার দেখানো উচিত,যদি ঘুমের মধ্যে লালা খুব বেশি ঝরে বা দিনে-রাতেও লালা বের হয়। যদি লালা ঝরার সঙ্গে কথা জড়িয়ে যাওয়া,গিলতে কষ্ট বা মুখের এক পাশ অবশ লাগার মতো সমস্যা থাকে।
হঠাৎ লালা বেশি পড়া শুরু হলে ওষুধ বা চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা থাকলে অবহেলা করা ঠিক নয়। সময়মতো ডাক্তার দেখানো স্বাস্থ্য রক্ষায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
শেষ কথাঃঘুমের মধ্যে লালা ঝরে কেন?কোন রোগের লক্ষণ নাকি স্বাভাবিক সমস্যা?
ঘুমের মধ্যে লালা ঝরা বেশিরভাগ সময় স্বাভাবিক একটি সমস্যা। এটি মুখ খোলা রাখা,পাশ ফিরে ঘুমানো বা গভীর ঘুমের কারণে হতে পারে। তবে যদি লালা খুব বেশি হয় বা সঙ্গে অন্য লক্ষণ যেমন কথা জড়িয়ে যাওয়া,গিলতে কষ্ট বা মুখের এক পাশ অবশ লাগা থাকে,তখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে সাধারণত এটি স্বাভাবিক। সচেতন থাকা এবং প্রয়োজনমতো চিকিৎসা নেওয়াই হলো নিরাপদ সমাধান।
.webp)
.webp)
.webp)
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url