গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা হলে কি খাবার খাওয়া উচিত।

গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা হলে কী খাবেন,তা নিয়ে অনেক মায়েরই চিন্তা থাকে। এই সময় শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে ক্লান্ত লাগা,দুর্বলতা বা মাথা ঘোরার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই খাবারের দিকে একটু বেশি নজর দেওয়া জরুরি। কোন কোন আয়রনসমৃদ্ধ খাবার,শাকসবজি ও ফল নিয়মিত খাবারের তালিকায় রাখা যেতে পারে,সেগুলো সহজভাবে জেনে নিন।

গর্ভাবস্থায়-রক্তশূন্যতা-হলে-কি-খাবার-খাওয়া-উচিত

কোন খাবারগুলো শরীরে আয়রনের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করতে পারে এবং কোন অভ্যাসগুলো এড়িয়ে চলা ভালো,সেগুলোও এখানে সহজভাবে জানতে পারবেন। নতুন মায়েদের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু খাবারের পরামর্শ ও সহজ টিপস একসঙ্গে দেওয়া হয়েছে। গর্ভাবস্থায় নিজের এবং গর্ভের শিশুর সুস্থতার জন্য খাবারের দিকে কীভাবে খেয়াল রাখবেন,তা জেনে নেওয়া ভালো।

পেজ সূচিপএঃ গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা হলে কি খাবার খাওয়া উচিত বিস্তারিতভাবে জেনে নিন।

গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা হলে কি খাবার খাওয়া উচিত

মা হতে চলেছেন,আপনাকে অনেক অভিনন্দন!এই সময়টা যেমন আনন্দের,তেমনি অনাগত সন্তানকে নিয়ে মনে নানা প্রশ্নও আসতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ একটি প্রশ্ন হলো,গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা হলে কী কী খাবার খাওয়া উচিত?

জীবনের প্রতিটি সময়েই স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া দরকার। তবে গর্ভাবস্থায় খাবারের প্রতি একটু বেশি যত্নশীল হওয়া জরুরি। কারণ এই সময় মায়ের শরীরের পাশাপাশি গর্ভের শিশুর বেড়ে ওঠার জন্যও প্রয়োজনীয় পুষ্টির দরকার হয়। সঠিক ও সুষম খাবার শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তাই গর্ভাবস্থায় প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় কী কী পরিবর্তন আনা যেতে পারে,কোন খাবারগুলো বেশি উপকারী এবং কীভাবে নিজের ও গর্ভের শিশুর পুষ্টির দিকে খেয়াল রাখবেন,সেসব বিষয় সহজভাবে জেনে নিন।

গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা হলে কী খাবেন,তা নিয়ে অনেক মায়েরই চিন্তা থাকে। এই সময় শরীরে আয়রনের প্রয়োজন বেড়ে যায়। খাবারের মাধ্যমে পর্যাপ্ত আয়রন না পেলে ক্লান্তি বা দুর্বলতার মতো সমস্যা হতে পারে।তাই প্রতিদিনের খাবারে পালং শাক,লাল শাকসহ বিভিন্ন শাকসবজি রাখতে পারেন। এগুলোতে আয়রন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি রয়েছে,যা শরীরের জন্য উপকারী। আয়রনযুক্ত খাবারের সঙ্গে লেবু বা ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ কোনো খাবার খেলে শরীর আয়রন শোষণ করতে আরও ভালোভাবে পারে।

তবে গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা ধরা পড়লে শুধু খাবারের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও জরুরি। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক আয়রন বা অন্য কোনো সাপ্লিমেন্ট দেওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন।

ডাল,ছোলা ও মটরশুটির মতো খাবারও গর্ভাবস্থায় বেশ উপকারী। এসব খাবারে আয়রনের পাশাপাশি প্রোটিনও থাকে,যা মায়ের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় এবং শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠায় সহায়তা করে।যারা মাছ-মাংস ও ডিম খান,তারা খাবারের তালিকায় মাংস ও ডিম রাখতে পারেন। এসব খাবারে শরীর সহজে শোষণ করতে পারে এমন ধরনের আয়রন পাওয়া যায়। তবে কতটা ও কতবার খাবেন,তা আপনার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করা ভালো।হালকা নাশতা হিসেবে কিশমিশ বা খেজুরও খেতে পারেন। এগুলো সহজে খাওয়া যায় এবং খাবারের পাশাপাশি কিছু আয়রন ও অন্যান্য পুষ্টি যোগাতে সাহায্য করে। তবে শুধু এসব খাবারের ওপর নির্ভর না করে গর্ভাবস্থায় সামগ্রিকভাবে সুষম খাবার খাওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

পর্যাপ্ত পানি পান করার পাশাপাশি ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল যেমন কমলা,পেয়ারা বা আমলকি খাবারের তালিকায় রাখতে পারেন। ভিটামিন সি শরীরে আয়রন শোষণে সাহায্য করে,তাই আয়রনযুক্ত খাবারের সঙ্গে এসব ফল খাওয়া উপকারী হতে পারে।তবে একসঙ্গে অনেক নতুন খাবার শুরু না করে ধীরে ধীরে খাবারের তালিকায় যোগ করুন। কোনো খাবারে অস্বস্তি বা সমস্যা হলে সেটি খাওয়া বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।আর গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা ধরা পড়লে নিজের মতো করে আয়রন বা অন্য কোনো সাপ্লিমেন্ট শুরু করবেন না। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক রক্ত পরীক্ষা করে সঠিক পরামর্শ দিতে পারেন এবং দরকার হলে উপযুক্ত সাপ্লিমেন্টও দিতে পারেন। কারণ প্রত্যেক মায়ের শারীরিক অবস্থা একরকম নয়।

রক্তশূন্যতা হয়েছে কিনা বুঝতে যেসব লক্ষণ খেয়াল করবেন

রক্তশূন্যতার কিছু লক্ষণ অনেক সময় গর্ভাবস্থার স্বাভাবিক ক্লান্তির মতো মনে হতে পারে। তাই শুরুতে অনেক মা বিষয়টি বুঝতে পারেন না। তবে সারাক্ষণ খুব বেশি দুর্বল বা ক্লান্ত লাগা,সামান্য কাজ করলেই হাঁপিয়ে যাওয়া,মাথা ঘোরা বা মাথাব্যথার মতো সমস্যা বারবার হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।রক্তশূন্যতা হলে ত্বক,ঠোঁট বা নখ স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা ফ্যাকাশে দেখাতে পারে। কারও কারও হাত-পা ঠান্ডা লাগতে পারে বা হৃদস্পন্দন স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত মনে হতে পারে। সিঁড়ি ওঠা বা একটু হাঁটার পর অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট হওয়াও একটি লক্ষণ হতে পারে।তবে এসব লক্ষণ শুধু রক্তশূন্যতার কারণেই হয়,এমন নয়। গর্ভাবস্থায় এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা করে রক্তশূন্যতা আছে কি না নিশ্চিত করা যায়।     

গর্ভাবস্থায়-রক্তশূন্যতা-হলে-কি-খাবার-খাওয়া-উচিত

এসব লক্ষণকে শুধু গর্ভাবস্থার স্বাভাবিক ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। রক্তশূন্যতা হলে চুল বেশি পড়া,নখ দুর্বল হয়ে সহজে ভেঙে যাওয়া বা কোনো কাজে মনোযোগ দিতে সমস্যা হওয়ার মতো লক্ষণও দেখা দিতে পারে।কখনো কখনো বরফ চিবানো,মাটি বা চুনের মতো খাবার নয় এমন জিনিস খাওয়ার ইচ্ছাও হতে পারে। এই ধরনের অস্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষাকে পিকা বলা হয়। এমন কিছু হলে বিষয়টি অবশ্যই চিকিৎসককে জানানো উচিত।গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতার সন্দেহ হলে প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা করে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা জানা যায়। রক্তশূন্যতা থাকলে চিকিৎসক খাবার,আয়রন সাপ্লিমেন্ট বা প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারেন। সময়মতো বিষয়টি শনাক্ত করে চিকিৎসা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ,কারণ গুরুতর রক্তশূন্যতা মা ও গর্ভের শিশুর জন্য বিভিন্ন ঝুঁকি বাড়াতে পারে।তাই শরীরে অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন। শুরুতেই সমস্যা ধরা পড়লে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াও সহজ হয়।

আয়রনের ঘাটতি পূরণে মাছ,মাংস ও ডিম কতটা উপকারী

গর্ভাবস্থায় আয়রনের ঘাটতি পূরণে মাছ,মাংস ও ডিমের মতো প্রাণীজ খাবার গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এসব খাবারে হিম আয়রন থাকে,যা শরীর সাধারণত উদ্ভিজ্জ খাবার থেকে পাওয়া আয়রনের তুলনায় সহজে শোষণ করতে পারে।তাই গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা থাকলে খাবারের তালিকায় মাছ,মাংস ও ডিম রাখার কথা বিবেচনা করা যায়। এসব খাবার শুধু আয়রনই নয়,প্রোটিনসহ আরও কিছু প্রয়োজনীয় পুষ্টি দেয়,যা মা ও গর্ভের শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য দরকার।তবে শুধু খাবার খেলেই রক্তশূন্যতা সবসময় ঠিক হয়ে যাবে,এমনটা ধরে নেওয়া উচিত নয়। রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আয়রন সাপ্লিমেন্ট বা অন্য চিকিৎসা লাগতে পারে। তাই নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই সবচেয়ে ভালো।

মাছ,মাংস ও ডিম গর্ভাবস্থায় পুষ্টিকর খাবারের ভালো উৎস হতে পারে। রুই,ইলিশ বা পাঙ্গাশের মতো মাছ খাবারের তালিকায় রাখা যায়। মাছ থেকে আয়রনের পাশাপাশি প্রোটিন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিও পাওয়া যায়।মুরগি বা গরুর মাংসেও আয়রন থাকে। তবে কতটা এবং কতবার খাবেন,সেটা আপনার শরীরের অবস্থা ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করা ভালো। বেশি মাংস খাওয়ার প্রয়োজন নেই,বরং বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর খাবার মিলিয়ে সুষম খাবার খাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।ডিমও সহজে পাওয়া যায় এবং রান্না করাও বেশ সহজ। সেদ্ধ বা ভালোভাবে রান্না করা ডিম খাবারের সঙ্গে রাখতে পারেন। তবে প্রতিদিন কতটি ডিম খাবেন,তা সবার জন্য একই নয়। আপনার সামগ্রিক খাবারের তালিকা ও শারীরিক অবস্থার ওপর বিষয়টি নির্ভর করে।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো,গর্ভাবস্থায় কোনো একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে মাছ,মাংস,ডিম,শাকসবজি,ডাল,ফলসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার মিলিয়ে খাওয়া।

মাছ,মাংস বা ডিমের সঙ্গে শাকসবজি রাখলে খাবারটা আরও পুষ্টিকর হয়। যেমন মাছের ঝোলের সঙ্গে পালং শাক বা লাল শাক খেতে পারেন। আবার ডিমের সঙ্গে টমেটো,লেবু বা অন্য কোনো ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার রাখলে শরীরে আয়রন শোষণে সাহায্য করতে পারে।তবে গর্ভাবস্থায় কলিজা বা লিভার খাওয়ার ক্ষেত্রে একটু সাবধান থাকা ভালো। এতে ভিটামিন এ অনেক বেশি থাকে,আর অতিরিক্ত ভিটামিন এ গর্ভাবস্থায় ক্ষতিকর হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কলিজা বেশি পরিমাণে বা নিয়মিত খাওয়া ঠিক নয়।সব মিলিয়ে গর্ভাবস্থায় মাছ,মাংস ও ডিমের পাশাপাশি শাকসবজি,ডাল ও ফল মিলিয়ে সুষম খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাবে এবং আয়রনের ঘাটতি থাকলে তা পূরণে সহায়তা করতে পারে। তবে রক্তশূন্যতা থাকলে শুধু খাবারের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

শাকসবজি ও ডাল থেকে আয়রন পাওয়ার সহজ উপায়

যারা নিরামিষ খাবার খান,তাদের জন্য গর্ভাবস্থায় আয়রনের চাহিদা পূরণ করা একটু বেশি গুরুত্বের বিষয়। তবে খাবারের তালিকায় নিয়মিত শাকসবজি ও ডাল রাখলে আয়রনসহ প্রয়োজনীয় কিছু পুষ্টি পাওয়া যায়।পালং শাক,লাল শাক,পুঁই শাক,কচু শাক ও কলমি শাকের মতো শাক খাবারের সঙ্গে রাখতে পারেন। এসব খাবারে উদ্ভিজ্জ আয়রন বা নন-হিম আয়রন থাকে। তবে এই ধরনের আয়রন শরীরে শোষিত হওয়ার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। তাই আয়রনযুক্ত শাকের সঙ্গে ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার,যেমন লেবু,পেয়ারা বা টমেটো খেলে আয়রন শোষণে সাহায্য করতে পারে।শাক ভালোভাবে পরিষ্কার করে রান্না করে খাওয়াই ভালো। শুধু শাক খেলেই রক্তশূন্যতা দূর হবে,এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার খাওয়াও জরুরি।

নিরামিষ খাবারের মধ্যে মসুর ডাল,ছোলা,রাজমা ও মটরশুটি ভালো পুষ্টির উৎস। এগুলো রান্নার আগে কয়েক ঘণ্টা বা রাতভর ভিজিয়ে রাখলে রান্না করা সহজ হয় এবং শরীরের জন্যও কিছু পুষ্টি শোষণ করা সহজ হতে পারে।চিনাবাদাম,তিল ও কুমড়ার বীজও খাবারের তালিকায় রাখতে পারেন। এগুলোতে আয়রনসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি রয়েছে। আবার হালকা নাশতা হিসেবে পরিমাণমতো খেজুর বা কিশমিশ খাওয়া যেতে পারে।আয়রনযুক্ত খাবারের সঙ্গে লেবু,পেয়ারা,টমেটো বা অন্য ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার রাখার চেষ্টা করুন। এতে শরীর উদ্ভিজ্জ খাবার থেকে পাওয়া আয়রন শোষণ করতে সাহায্য পেতে পারে।তবে শুধু এসব খাবার খেলেই রক্তশূন্যতা নিয়ন্ত্রণে থাকবে,এমন নয়। গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। খাবারের পাশাপাশি সঠিক চিকিৎসা ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসই মা ও শিশুর সুস্থতার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ভিটামিন সি-যুক্ত ফল ও সবজি খেলে শরীরে আয়রন ভালোভাবে শোষিত হয়

ভিটামিন সি শরীরকে খাবার থেকে আয়রন শোষণ করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে শাকসবজি,ডাল ও অন্যান্য উদ্ভিজ্জ খাবার থেকে পাওয়া আয়রন শরীরে ভালোভাবে কাজে লাগাতে ভিটামিন সি উপকারী হতে পারে। তাই শুধু আয়রনযুক্ত খাবার খেলেই হবে না,খাবারের তালিকায় ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল ও সবজিও রাখা ভালো।যেমন আয়রনযুক্ত খাবারের সঙ্গে লেবু,পেয়ারা,কমলা,আমলকি বা টমেটো খেতে পারেন। এতে খাবার থেকে পাওয়া আয়রন শরীরে শোষিত হতে সুবিধা হয়।তবে রক্তশূন্যতা থাকলে শুধু ভিটামিন সি বা আয়রনযুক্ত খাবার খেলেই দ্রুত সমস্যা ঠিক হয়ে যাবে,এমনটা ভাবা ঠিক নয়। গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা ধরা পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়াও জরুরি।

লেবু,কমলা,পেয়ারা,আমড়া ও টমেটোর মতো ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় রাখতে পারেন। এগুলো খাবার থেকে আয়রন শরীরে শোষিত হতে সাহায্য করে।যেমন ডাল বা শাকের সঙ্গে একটু লেবুর রস মিশিয়ে খেতে পারেন। সালাদে টমেটো বা পেয়ারা রাখাও ভালো। খাবারের পর কমলা বা অন্য কোনো ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল খাওয়া যেতে পারে।তবে শুধু এসব ফল খেলেই রক্তশূন্যতা দূর হবে,এমন নয়। এগুলো আয়রনযুক্ত খাবারের সঙ্গে খেলে আয়রন শোষণে সহায়তা করতে পারে। গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়াও জরুরি।

গর্ভাবস্থায়-রক্তশূন্যতা-হলে-কি-খাবার-খাওয়া-উচিত

প্রতিদিনের খাবারে ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল ও সবজি রাখার চেষ্টা করুন। সকালে লেবু মেশানো পানি খেতে পারেন,দুপুরের খাবারের সঙ্গে টমেটোর সালাদ রাখতে পারেন। বিকেলে পেয়ারা,কমলা বা অন্য কোনো ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফলও খাওয়া যেতে পারে।

আয়রনযুক্ত খাবারের সঙ্গে এসব খাবার খেলে শরীর আয়রন শোষণ করতে সুবিধা পায়। তাই ডাল বা শাকের সঙ্গে খাবারের শেষে একটু লেবুর রস মিশিয়ে নিতে পারেন। ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ কিছু খাবার কাঁচা বা কম রান্না করে খেলে এর পুষ্টিগুণ ভালোভাবে পাওয়া যেতে পারে।তবে এসব খাবার রক্তশূন্যতার চিকিৎসার বিকল্প নয়। গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আয়রন সাপ্লিমেন্ট বা অন্য চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। সুষম খাবার ও সঠিক চিকিৎসা একসঙ্গে চললেই মা ও শিশুর জন্য ভালো।

যেসব খাবার আয়রন শরীরে শোষিত হতে বাধা দেয়

অনেক গর্ভবতী মা মনে করেন,শুধু আয়রনযুক্ত খাবার খেলেই রক্তশূন্যতা ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু খাবারের পাশাপাশি কখন কী খাচ্ছেন,সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। কিছু খাবার বা পানীয় একই সময়ে খেলে শরীরে আয়রন শোষণ কিছুটা কমতে পারে।যেমন চা,কফি ও কোকোতে এমন কিছু উপাদান থাকে,যা আয়রন শোষণে বাধা দিতে পারে। তাই আয়রনযুক্ত খাবারের সঙ্গে বা খাবারের পরপরই চা-কফি না খাওয়াই ভালো। খাবারের অন্তত এক থেকে দুই ঘণ্টা আগে বা পরে এগুলো খেতে পারেন।দুধ,দই ও চিজের মতো ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবারও একই সময়ে বেশি পরিমাণে খেলে আয়রন শোষণে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আয়রনযুক্ত খাবার বা আয়রন সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার সময় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবারের মধ্যে কিছুটা সময়ের ব্যবধান রাখা ভালো।তবে নিজের ইচ্ছায় কোনো খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়ার দরকার নেই। গর্ভাবস্থায় ক্যালসিয়ামসহ অন্যান্য পুষ্টিও গুরুত্বপূর্ণ। তাই খাবারের সময় ঠিকভাবে মিলিয়ে খাওয়াই সবচেয়ে ভালো।

ডাল ও পুরো শস্যের মতো কিছু খাবারে ফাইটেট থাকে,যা শরীরে আয়রন শোষণের পরিমাণ কিছুটা কমাতে পারে। তবে ডাল রান্নার আগে কয়েক ঘণ্টা বা রাতভর ভিজিয়ে রাখলে এই প্রভাব কিছুটা কমতে পারে। ভালোভাবে রান্না করেও ডাল খাওয়া উচিত।

খাবারের পাশাপাশি কিছু ওষুধও আয়রন শোষণে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে অ্যান্টাসিড বা গ্যাস্ট্রিকের কিছু ওষুধ দীর্ঘদিন খেলে এমন সমস্যা হতে পারে। তাই নিজের ইচ্ছায় কোনো ওষুধ শুরু বা বন্ধ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

খাবারের সময় একটু পরিকল্পনা করলেই বিষয়টি সহজ হয়ে যায়। যেমন আয়রনযুক্ত খাবারের সঙ্গে চা বা কফি না খেয়ে কিছুটা সময় পরে খেতে পারেন। একইভাবে আয়রন সাপ্লিমেন্টের সঙ্গে দুধ বা ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার নেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সময়ের ব্যবধান রাখা ভালো।তবে শুধু খাবারের সময় পরিবর্তন করলেই রক্তশূন্যতা ঠিক হয়ে যাবে,এমন নয়। গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা থাকলে নিয়মিত পরীক্ষা,পুষ্টিকর খাবার এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের দেওয়া আয়রন সাপ্লিমেন্ট নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

একদিনের জন্য সহজ ও পুষ্টিকর খাবারের তালিকা

একদিনের খাবারের পরিকল্পনা আগে থেকে করে রাখলে গর্ভাবস্থায় পুষ্টিকর খাবার খাওয়া অনেক সহজ হয়। এতে আয়রন,প্রোটিন,ভিটামিন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি খাবারের মাধ্যমে নিয়মিত পাওয়ার সুযোগ থাকে।সকালের নাশতায় সেদ্ধ ডিম,রুটি ও কিছু শাকসবজি রাখতে পারেন। খাবারের সঙ্গে টমেটো বা পরে পেয়ারা,কমলা কিংবা অন্য কোনো ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল খেতে পারেন। এতে খাবার থেকে পাওয়া আয়রন শরীরে শোষিত হতে সাহায্য করবে।

দুপুরে ভাতের সঙ্গে মসুর ডাল,মাছ এবং শাকসবজি রাখতে পারেন। ডাল বা শাকের সঙ্গে সামান্য লেবুর রস যোগ করলে ভিটামিন সি পাওয়া যাবে। সঙ্গে টমেটোর সালাদও রাখা যেতে পারে।

বিকেলে ক্ষুধা লাগলে হালকা কিছু খেতে পারেন। যেমন কয়েকটি খেজুর বা কিশমিশের সঙ্গে পরিমাণমতো চিনাবাদাম রাখতে পারেন। এগুলো সহজে খাওয়া যায় এবং খাবার থেকে কিছু আয়রন ও অন্যান্য পুষ্টিও পাওয়া যায়।

রাতে খুব ভারী খাবার না খেয়ে মুগ ডালের খিচুড়ি করতে পারেন। এর সঙ্গে পুঁই শাক,কচু শাক বা অন্য কোনো সবজি রাখতে পারেন। চাইলে একটি ভালোভাবে রান্না করা ডিম বা ছোট মাছও যোগ করা যায়। খাবারের সঙ্গে লেবু বা অন্য কোনো ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার রাখলে আয়রন শোষণে সহায়তা করতে পারে।

গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা থাকলে প্রতিদিনের খাবারের দিকে একটু বেশি নজর দেওয়া দরকার। একদিনের খাবারের তালিকা দেখে সপ্তাহের অন্য দিনগুলোতেও একইভাবে খাবার বদলে নিতে পারেন। যেমন একদিন মাছ থাকলে অন্যদিন ডিম বা ডাল রাখতে পারেন। সঙ্গে শাকসবজি ও ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল রাখার চেষ্টা করুন।তবে শুধু খাবার খেয়েই রক্তের হিমোগ্লোবিন দ্রুত বেড়ে যাবে,এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। গর্ভাবস্থায় আয়রনের ঘাটতি থাকলে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী আয়রন বা অন্যান্য সাপ্লিমেন্ট দিতে পারেন। তাই নিয়মিত পরীক্ষা করানো এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।সুষম খাবার,পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা একসঙ্গে চললে মা ও শিশুর সুস্থতার জন্য ভালো পরিবেশ তৈরি হয়।

বাড়িতে সহজে পুষ্টিকর খাবার তৈরি করার উপায়

ঘরে খাবার তৈরি করার সময় কয়েকটি ছোট বিষয় খেয়াল রাখলে খাবারের পুষ্টিগুণ ভালোভাবে পাওয়া যায়। শাকসবজি রান্নার আগে পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। তবে শাকের পুষ্টি ধরে রাখতে অযথা বেশি সময় সিদ্ধ করে পানি ফেলে দেওয়ার অভ্যাস না করাই ভালো।মসুর ডাল,ছোলা বা অন্যান্য ডাল রান্নার আগে কয়েক ঘণ্টা বা রাতভর ভিজিয়ে রাখলে রান্না সহজ হয় এবং ডালের কিছু উপাদান কমে যেতে পারে,যা আয়রন শোষণে সহায়ক হতে পারে। এরপর ভালোভাবে রান্না করে খেতে পারেন।

চিনাবাদাম,তিল বা বিভিন্ন বীজও খাবারের তালিকায় রাখতে পারেন। তবে এগুলো ভিজিয়ে খাওয়াই যে সবার জন্য বেশি উপকারী,এমনটা নিশ্চিত নয়। তাই পরিমাণমতো এবং নিরাপদভাবে খাওয়াই ভালো।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো,খাবার ভালোভাবে পরিষ্কার করে রান্না করা এবং প্রতিদিনের খাবারে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর উপাদান রাখা। গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা থাকলে শুধু খাবারের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শও মেনে চলুন।

রান্না করার সময় খাবার অযথা বেশি সময় ধরে রান্না না করাই ভালো। কারণ অতিরিক্ত রান্না করলে কিছু পুষ্টি কমে যেতে পারে। লেবু বা টমেটো ব্যবহার করলে রান্নার একেবারে শেষে যোগ করতে পারেন। এতে ভিটামিন সি কিছুটা ভালোভাবে ধরে রাখা সম্ভব হয়।রান্নায় খুব বেশি মশলা ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। পরিমাণমতো মশলা দিয়ে সহজভাবে রান্না করলেই খাবার সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হতে পারে। চাইলে কাস্ট আয়রনের পাত্রেও রান্না করতে পারেন। বিশেষ করে টমেটো বা লেবুর মতো অ্যাসিডিক খাবার কাস্ট আয়রনের পাত্রে রান্না করলে খাবারে সামান্য আয়রন যোগ হতে পারে।তবে শুধু রান্নার পদ্ধতি পরিবর্তন করলেই রক্তশূন্যতা দূর হবে,এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা থাকলে সুষম খাবারের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা নেওয়াও জরুরি।

কখন আয়রন সাপ্লিমেন্ট প্রয়োজন হতে পারে এবং কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন

শুধু খাবারের মাধ্যমে আয়রনের ঘাটতি পূরণ না হলে চিকিৎসকের পরামর্শে আয়রন সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে রক্ত পরীক্ষায় হিমোগ্লোবিন কম পাওয়া গেলে বা অতিরিক্ত দুর্বলতা,মাথা ঘোরা,শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা থাকলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত।গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা হলে কী খাবার খাওয়া উচিত,সেটা যেমন গুরুত্বপূর্ণ,তেমনি কখন সাপ্লিমেন্ট প্রয়োজন এবং কী পরিমাণে নিতে হবে,সেটাও জানা দরকার। সবার জন্য একই মাত্রার সাপ্লিমেন্ট প্রয়োজন হয় না। তাই নিজের ইচ্ছায় আয়রনের ওষুধ শুরু না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।চিকিৎসক যে ডোজ ও নিয়ম দিয়েছেন,সেটাই মেনে চলুন। নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করালে চিকিৎসাও ঠিকভাবে কাজ করছে কি না,সেটাও বোঝা সহজ হয়।

আয়রনের ট্যাবলেট কখন খাবেন,সেটা চিকিৎসকের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী ঠিক করাই সবচেয়ে ভালো। অনেক ক্ষেত্রে খালি পেটে আয়রন খেলে শরীরে ভালোভাবে শোষিত হয়,তবে এতে পেটে অস্বস্তি হলে খাবারের সঙ্গে বা খাবারের পরে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।আয়রনের ট্যাবলেট খাওয়ার সময় চা,কফি বা দুধ একসঙ্গে না খাওয়াই ভালো,কারণ এগুলো আয়রন শোষণে বাধা দিতে পারে। তাই এসব খাবার বা পানীয়ের সঙ্গে কিছুটা সময়ের ব্যবধান রাখুন।আয়রন সাপ্লিমেন্ট খেলে কারও কারও কোষ্ঠকাঠিন্য,বমিভাব বা পেটের অস্বস্তি হতে পারে। এমন সমস্যা হলে পর্যাপ্ত পানি পান করুন,খাবারে শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার রাখুন এবং সমস্যা বেশি হলে চিকিৎসককে জানান।প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পরপর রক্ত পরীক্ষা করুন। এতে হিমোগ্লোবিন ও আয়রনের অবস্থা কেমন আছে এবং চিকিৎসা ঠিকভাবে কাজ করছে কি না,তা বোঝা যায়।

শেষ কথাঃ গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা হলে কি খাবার খাওয়া উচিত

গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা অনেক মায়েরই হতে পারে। তবে শুরু থেকেই খাবারের দিকে একটু খেয়াল রাখলে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিলে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।প্রতিদিনের খাবারে মাছ,মাংস,ডিম,ডাল,শাকসবজি ও আয়রনযুক্ত অন্যান্য খাবার রাখার চেষ্টা করুন। পাশাপাশি লেবু,কমলা,পেয়ারা বা অন্য কোনো ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল খেতে পারেন। চা,কফি ও দুধ আয়রনযুক্ত খাবার বা আয়রন ট্যাবলেটের সঙ্গে না খেয়ে কিছুটা সময়ের ব্যবধান রাখুন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো,নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে রক্ত পরীক্ষা করা। শুধু খাবারের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসক যে ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট দিয়েছেন,সেটাও নিয়ম মেনে খেতে হবে।নিজের যত্ন নিন,পুষ্টিকর খাবার খান এবং শরীরে অস্বাভাবিক কোনো সমস্যা দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন। মা সুস্থ থাকলে গর্ভের শিশুর যত্ন নেওয়াটাও সহজ হয়। সুন্দর ও সুস্থ মাতৃত্বের যাত্রা হোক আপনার।

আর এই লেখার কোনো টিপস যদি আপনার কাজে লাগে,তাহলে অবশ্যই মন্তব্য করে আপনার অভিজ্ঞতা জানাবেন।এই লেখাটি পড়ে আপনি বিষয়টি সম্পর্কে ভালো ধারণা পেয়েছেন। যদি আপনার ভালো লাগে,তাহলে অবশ্যই বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে তাদেরও জানার সুযোগ করে দিতে পারেন।এতক্ষণ সময় নিয়ে পুরো আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।




এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url