তারাবি নামাজ দলিল সহ কত রাকাত?
রোজা রাখা ফরজ হলেও রাতের ইবাদত আরও সওয়াববর্ধক হয়। তারাবি নামাজ পড়ার সময় এবং রাকাত নিয়ে অনেকের ধারণা বিভ্রান্ত। তাই জানা জরুরি,কত রাকাত পড়া স্বয়ং নবীজির সুন্নত অনুযায়ী।
নতুন মুসলমান বা তরুণদের অনেক প্রশ্ন থাকে,“কত রাকাত পড়বো?”। এখানে আমরা সহজ ভাষায় সেই প্রশ্নের উত্তর দেব।চলুন আজকের আর্টিকেলটিতে সহজ ভাষায় সেই প্রশ্নের উত্তর বিস্তারিতভাবে জেনে নিই।
পেজ সূচিপএঃতারাবি নামাজ দলিল সহ কত রাকাত?বিস্তারিতভাবে জেনে নিন।
- তারাবি নামাজ দলিল সহ কত রাকাত?
- তারাবি নামাজের ফজিলত
- তারাবি নামাজের সুন্নত ও গুরুত্ব
- ঘরে তারাবি নামাজ পড়ার নিয়ম
- মসজিদে জামাতে তারাবি নামাজ
- তারাবি নামাজের হাদিস দলিল
- রোজা ও তারাবি নামাজ পার্থক্য
- নারীদের জন্য তারাবি নামাজের বিধান
- তারাবি নামাজ না পড়লে কি রোজা ভেঙে যায়
- শেষ কথাঃতারাবি নামাজ দলিল সহ কত রাকাত?
তারাবি নামাজ দলিল সহ কত রাকাত?
তারাবি নামাজ দলিল সহ কত রাকাত?রমজান মাস মুসলিমদের জন্য বিশেষ। এই মাসে রোজা রাখা এবং বেশি বেশি ইবাদত করা হয়। তারাবি নামাজও রমজানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন আসে—“তারাবি নামাজ কত রাকাত,এবং এর দলিল কী?”এখানে আমরা সহজ ভাষায় এ বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করব।
তারাবির নামাজ ০৮ রাকাতও পড়া যায়,আবার ২০ রাকাতও পড়া যায়।দুই ভাবেই সহীহ মত রয়েছে। ০৮ রাকাত নামাজের দলিল হাদিসে এসেছে,আয়েশা (রা.)বলেন,নবীজি হযরত মুহাম্মদ (সা.)রমজান ও রমজানের বাইরে ১১ রাকাতের বেশি পড়তেন না,(সহীহ বুখারী)। এখানে ০৮ রাকাত তারাবি+০৩ রাকাত বিতর=১১রাকাত।তাই অনেকে ০৮ রাকাত তারাবি পড়েন।২০ রাকাত নামাজের দলিল হাদিসে এসেছে,উমর ইবনুল খাওাব(রা.)এর সময়ে সাহাবারা জামাতে ২০ রাকাত তারাবি পড়তেন।ইসলামিক ইতিহাস অনুযায়ী,সাহাবায়ে কেরাম ২০ রাকাত পড়াকে সমর্থন করেছেন।তাই অনেক মসজিদে ২০ রাকাত পড়া হয়।
তারাবি নামাজ হলো রমজানের রাতে এশার নামাজের পর পড়া বিশেষ সুন্নত নামাজ। সাধারণত ২০ রাকাত পড়া হয়,তবে অনেক হাদিসে ৮ রাকাতও ঠিক আছে। এটি ফরজ নয়,তাই রাকাতের সংখ্যা কম বা বেশি হলেও নামাজ আদায় হয়ে যায়। প্রতিটি রাকাতে সূরা ফাতিহা ও ছোট একটি সূরা পড়া হয়,তারপর রুকু ও সুজুদ করা হয়। খতম তারাবির বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।বর্তমানে খতম তারাবির মাধ্যমেও তারাবি নামাজ আদায় করা হয়। হাদিসে উল্লেখ আছে,নবীজি হযরত মুহাম্মদ (সা.) নিজে নিয়মিত এই নামাজ আদায় করতেন এবং সাহাবিদেরও উৎসাহ দিয়েছেন।
তারাবি নামাজের ফজিলত
তারাবি নামাজের ফজিলত অনেক বেশি,কারণ এটি রমজানের রাতে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সুযোগ দেয়। হাদিসে এসেছে,যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানে রাতের নামাজ আদায় করবে,তার পূর্বের গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। তারাবি নামাজ পড়লে রমজানের ইবাদত পূর্ণতা পায় এবং মনও প্রশান্ত হয়। এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত ইবাদত। তাই যতটা সম্ভব নিয়মিত তারাবি নামাজ পড়া উচিত।
তারাবি নামাজের সুন্নত ও গুরুত্ব
তারাবি নামাজ হলো রমজানের রাতে পড়ার একটি সুন্নত নামাজ,যা ফরজ নয় কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নবীজি হযরত মুহাম্মদ (সা.) নিজে নিয়মিত আদায় করতেন এবং সাহাবিদেরও পড়তে উৎসাহ দিতেন। এটি পড়লে রমজানের রাতে বেশি ইবাদত ও কোরআন তিলাওয়াতের সুযোগ পাওয়া যায়। তারাবি নামাজ মানুষের মনকে আল্লাহর প্রতি আরও মনোযোগী ও ধার্মিক করে তোলে। তাই সম্ভব হলে নিয়মিত তারাবি নামাজ পড়া উচিত,যাতে রমজানের পূর্ণ বরকত পাওয়া যায়।
ঘরে তারাবি নামাজ পড়ার নিয়ম
ঘরে তারাবি নামাজ পড়ার নিয়ম খুবই সহজ। প্রথমে নিয়ত করে মনোযোগ দিয়ে নামাজ শুরু করতে হবে। প্রতিটি রাকাতে দাঁড়িয়ে সূরা ফাতিহা এবং ছোট একটি সূরা পড়তে হয়,তারপর রুকু ও সুজুদ সম্পন্ন করতে হয়। নামাজ শেষে দোয়া ও জিকির করা উচিত। ঘরে পড়লেও যদি আন্তরিকতা ও মনোযোগ থাকে,তবে ফজিলত মসজিদে পড়ার মতোই পাওয়া যায়।
মসজিদে জামাতে তারাবি নামাজ
মসজিদে জামাতে তারাবি নামাজ পড়া অনেক বেশি সওয়াবের কাজ। এ সময় ইমামের নেতৃত্বে মুসলমানরা একসাথে নামাজ আদায় করেন।
প্রতিটি রাকাতে সূরা ফাতিহা ও একটি ছোট সূরা পড়া হয়,তারপর রুকু ও সুজুদ করা হয়। মসজিদে পড়লে সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিলিত হওয়া যায় এবং নামাজের ফজিলত আরও বৃদ্ধি পায়। তাই সম্ভব হলে প্রতিদিন মসজিদে গিয়ে তারাবি নামাজ পড়া উত্তম।
তারাবি নামাজের হাদিস দলিল
তারাবি নামাজের হাদিসে অনেকবার তার গুরুত্ব উল্লেখ আছে। নবীজি হযরত মুহাম্মদ (সা.) নিজে রমজানের রাতে নিয়মিত তারাবি নামাজ পড়তেন। সাহাবিরাও তাঁর অনুসরণ করতেন এবং মুসলমানদেরও পড়ার জন্য উৎসাহ দিতেন। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানে রাতের নামাজ পড়বে,তার পূর্বের গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। এই কারণে তারাবি নামাজকে রমজানের রাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত হিসেবে গণ্য করা হয়।
রোজা ও তারাবি নামাজ পার্থক্য
রোজা এবং তারাবি নামাজ দুটোই রমজানের ইবাদত,কিন্তু একে অপরের থেকে আলাদা। রোজা হলো ফরজ,অর্থাৎ সকল সক্ষম প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের জন্য বাধ্যতামূলক,আর এতে খাওয়া-পানাসহ অন্যান্য ফরজ বিষয় এড়িয়ে চলা হয়। তারাবি নামাজ হলো সুন্নত নফল নামাজ,যা রমজানের রাতে এশার নামাজের পর পড়া হয়। রোজা না থাকলেও তারাবি পড়া সম্ভব,আর তারাবি না পড়লেও রোজা ঠিক থাকে। মূল পার্থক্য হলো রোজা ফরজ,আর তারাবি সুন্নত ও অতিরিক্ত সওয়াবের জন্য।
নারীদের জন্য তারাবি নামাজের বিধান
নারীদের জন্য তারাবি নামাজ পড়া সুন্নত,তবে এটি ফরজ নয়। তারা চাইলে মসজিদে বা ঘরে পরিবারসহ নামাজ আদায় করতে পারেন। ঘরে পড়ার সময় শান্ত পরিবেশ ও আরামদায়ক অবস্থান রাখা ভালো।
প্রতিটি রাকাতে সূরা ফাতিহা ও ছোট একটি সূরা পড়া, রুকু ও সুজুদ সম্পন্ন করা প্রয়োজন। মনোযোগ ও নিয়ত ভালো থাকলে ঘরে পড়া তারাবি নামাজের ফজিলত মসজিদে পড়ার মতোই হয়।
তারাবি নামাজ না পড়লে কি রোজা ভেঙে যায়
তারাবি নামাজ না পড়লে কি রোজা ভেঙে যায়?না,তারাবি নামাজ না পড়লেও রোজা ভেঙে যায় না। কারণ রোজা হলো ফরজ ইবাদত,আর তারাবি নামাজ হলো সুন্নত নফল নামাজ। কেউ অসুস্থতা,ব্যস্ততা বা অন্য কারণে তারাবি না পড়লেও রোজা ঠিক থাকে। তবে তারাবি নামাজ পড়লে রমজানের পূর্ণ বরকত ও বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। তাই সম্ভব হলে নিয়মিত তারাবি পড়ার চেষ্টা করা উচিত।
শেষ কথাঃতারাবি নামাজ দলিল সহ কত রাকাত?
তারাবি নামাজ হলো রমজানের রাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত নামাজ। সাধারণত ৮ থেকে ২০ রাকাত পড়া হয় এবং এটি ফরজ নয়,তাই রাকাতের সংখ্যা কম বেশি হলেও নামাজ আদায় হয়ে যায়। নবীজি হযরত মুহাম্মদ (সা.) নিজে নিয়মিত পড়তেন এবং সাহাবিদেরও উৎসাহ দিতেন। ঘরে বা মসজিদে পড়ার ফজিলত সমান,তবে আন্তরিকতা ও মনোযোগ থাকা জরুরি। তাই সম্ভব হলে নিয়মিত তারাবি নামাজ পড়ার চেষ্টা করা উচিত,যাতে রমজানের পূর্ণ বরকত অর্জন করা যায়।

.webp)
.webp)
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url