ভাতের মাড়ের স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে জানুন।

 আপনি কি ভাতের মাড় খেলে যেসব স্বাস্থ্য উপকারিতা পাবেন সে সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন? তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য। এই আর্টিকেলে ভাতের মাড়ে থাকা পুষ্টি ,খাওয়ার উপকারিতা, অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।                                  

                                                      

ভাতের মাড়ের স্বাস্থ্য উপকারিতা

                                                                 

ভাতের মাড় বাঙালি খাবারের একটি পরিচিত ও ঐতিহ্যবাহী উপাদান, যা একসময় নিয়মিতভাবে ঘরের খাবারের অংশ ছিল। আধুনিক সময়ে অনেকেই এটি অবহেলা করলেও ভাতের মাড়ে রয়েছে নানা স্বাস্থ্যগুণ।

পেজ সূচিপএঃ ভাতের মাড়ের স্বাস্থ্য উপকারিতা বিস্তারিত ভাবে জেনে নিন।

ভাতের মাড়ের স্বাস্থ্য উপকারিতা

ভাত সিদ্ধ করার সময় যে হালকা ঘোলা পানি তৈরি হয়, সেটিই ভাতের মাড়। এতে থাকে শর্করা, সামান্য ভিটামিন ও খনিজ উপাদান, যা শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। গ্রামবাংলায় বহু বছর ধরে ভাতের মাড় শ্রমজীবী মানুষদের জন্য শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, কারণ এটি সহজে হজম হয় এবং শরীরকে সতেজ রাখে।

ভাতের মাড় হজমশক্তি বৃদ্ধিতে বিশেষভাবে উপকারী।যাদের হজমে সমস্যা, পেট জ্বালাপোড়া বা বদহজম রয়েছে, তাদের জন্য ভাতের মাড় একটি প্রাকৃতিক সমাধান হিসেবে কাজ করে। এছাড়া ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানার সময় শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া পানি ও লবণের ঘাটতি পূরণ করতেও ভাতের মাড় উপকারী, বিশেষ করে অল্প লবণ মিশিয়ে খেলে।

দুর্বলতা, জ্বর বা শারীরিক ক্লান্তির সময় ভাতের মাড় শরীরের জন্য আরামদায়ক পানীয় হিসেবে কাজ করে। এটি শরীরকে হালকা শক্তি দেয়, পানিশূন্যতা দূর করে এবং শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। শিশু ও বয়স্কদের জন্য ভাতের মাড় সহজপাচ্য হওয়ায় এটি নিরাপদ ও উপকারী খাদ্য হিসেবে বিবেচিত। অনেক ক্ষেত্রে অসুস্থ রোগীদের জন্য ডাক্তাররাও হালকা খাবার হিসেবে ভাতের মাড় গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

দুর্বলতা, জ্বর বা শারীরিক ক্লান্তির সময় ভাতের মাড় শরীরের জন্য আরামদায়ক পানীয় হিসেবে কাজ করে। এটি শরীরকে হালকা শক্তি দেয়, পানিশূন্যতা দূর করে এবং শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। শিশু ও বয়স্কদের জন্য ভাতের মাড় সহজপাচ্য হওয়ায় এটি নিরাপদ ও উপকারী খাদ্য হিসেবে বিবেচিত। অনেক ক্ষেত্রে অসুস্থ রোগীদের জন্য ডাক্তাররাও হালকা খাবার হিসেবে ভাতের মাড় গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। 

 হজম শক্তি বাড়াতে ভাতের মাড়

হজম শক্তি বাড়াতে ভাতের মাড় একটি সহজ, প্রাকৃতিক এবং বহুদিনের পরীক্ষিত ঘরোয়া উপাদান হিসেবে পরিচিত।যারা প্রায়ই বদহজম, পেট ভারী লাগা বা খাবার খাওয়ার পর অস্বস্তিতে ভোগেন, তাদের জন্য ভাতের মাড় পাকস্থলীতে আরাম এনে দেয়। এটি পাকস্থলীর ভেতরে একটি নরম আবরণ তৈরি করে, যা অতিরিক্ত অ্যাসিডের জ্বালা কমাতে সহায়তা করে এবং হজমে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করে।

ভাতের মাড় অন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি অন্ত্রে জমে থাকা গ্যাস কমাতে সাহায্য করে এবং খাবার সহজে ভেঙে হজম হওয়ার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। বিশেষ করে যারা ঝাল, ভাজাপোড়া বা অনিয়মিত খাবারের কারণে পেটের সমস্যা অনুভব করেন, তাদের জন্য ভাতের মাড় একটি প্রাকৃতিক সমাধান হতে পারে।

ডায়রিয়া ও পাতলা পায়খানায় উপকারী

ডায়রিয়া ও পাতলা পায়খানার সময় শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়, যার ফলে দ্রুত দুর্বলতা ও পানিশূন্যতা দেখা দেয়। এ অবস্থায় হালকা, সহজপাচ্য ও শরীরকে আরাম দেয় এমন খাবার অত্যন্ত জরুরি। ভাতের মাড় এই সময়ে একটি উপকারী ঘরোয়া খাদ্য হিসেবে কাজ করে, কারণ এতে থাকা প্রাকৃতিক স্টার্চ অন্ত্রের ভেতরে শোষণক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং মলের তরলভাব কিছুটা কমাতে সহায়তা করে। মানব অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, ডায়রিয়ার সময় ভাতের মাড় খেলে পাকস্থলী ও অন্ত্র ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করে।

ভাতের মাড় শরীরের পানিশূন্যতা কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডায়রিয়ার সময় শুধু পানি পান করলে অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় লবণের ঘাটতি পূরণ হয় না, কিন্তু অল্প লবণ মিশিয়ে ভাতের মাড় খেলে শরীর কিছুটা ইলেক্ট্রোলাইট পায়, যা দুর্বলতা কমাতে সাহায্য করে। এটি অন্ত্রে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে হালকা শক্তি জোগায়, ফলে রোগীর শরীর সহজে খাবার গ্রহণ করতে পারে।

ডায়রিয়া ও পাতলা পায়খানার পর অন্ত্র সাধারণত সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। এ সময় ভারী, ঝাল বা তেলযুক্ত খাবার অন্ত্রের ক্ষতি বাড়াতে পারে। ভাতের মাড় অন্ত্রকে বিশ্রাম দেয় এবং ধীরে ধীরে হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে। তবে এটি মনে রাখা জরুরি যে, ডায়রিয়া যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, জ্বর, রক্তমিশ্রিত পায়খানা বা অতিরিক্ত পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সে ক্ষেত্রে ভাতের মাড় সহায়ক খাদ্য হতে পারে, কিন্তু চিকিৎসার বিকল্প নয়।

শরীরের শক্তি যোগাতে ভাতের মাড়

শরীরের শক্তি যোগাতে ভাতের মাড় একটি সহজ, প্রাকৃতিক ও দ্রুত শক্তিদায়ক খাদ্য হিসেবে পরিচিত। ভাতের মাড়ে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা ও স্টার্চ শরীরে সহজে ভেঙে গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়, যা দ্রুত শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। বিশেষ করে যারা শারীরিক পরিশ্রম করেন, অসুস্থতার পর দুর্বলতায় ভোগেন বা জ্বর ও ডায়রিয়ার কারণে শক্তিহীন হয়ে পড়েন, তাদের জন্য ভাতের মাড় আরামদায়ক ও কার্যকর একটি পানীয় হতে পারে। এটি পাকস্থলীর ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে শরীরে শক্তি ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে।

ভাতের মাড় শরীরের পানিশূন্যতা দূর করার মাধ্যমে শক্তি বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ক্লান্তি ও দুর্বলতার অন্যতম কারণ হলো শরীরে পানির ঘাটতি। ভাতের মাড়ে থাকা পানি ও অল্প পরিমাণ খনিজ উপাদান শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে, ফলে শরীর সতেজ অনুভব করে। বিশেষ করে গরমের সময় বা অতিরিক্ত ঘামের পর ভাতের মাড় খেলে শরীরের শক্তি ও কর্মক্ষমতা কিছুটা হলেও ফিরে আসে।

কিডনির জন্য উপকারী ভাতের মাড়

ভাতের মাড় কিডনির স্বাস্থ্য রক্ষায় একটি প্রাকৃতিক ও হালকা পানীয় হিসেবে কাজ করে। এতে থাকা পানি এবং সহজপাচ্য শর্করা কিডনিতে অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে, যা কিডনির স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়ক। কিডনিতে পাথর বা অন্যান্য জটিলতা কমাতে সরাসরি প্রমাণ নেই, তবে হালকা ও প্রাকৃতিক পানীয় হিসেবে ভাতের মাড় কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে দেহকে সতেজ রাখে।

ভাতের মাড় কিডনির স্বাস্থ্য রক্ষায় একটি প্রাকৃতিক ও হালকা পানীয় হিসেবে কাজ করে। এতে থাকা পানি এবং সহজপাচ্য শর্করা কিডনিতে অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে, যা কিডনির স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়ক। কিডনিতে পাথর বা অন্যান্য জটিলতা কমাতে সরাসরি প্রমাণ নেই, তবে হালকা ও প্রাকৃতিক পানীয় হিসেবে ভাতের মাড় কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে দেহকে সতেজ রাখে।

শরীর ঠান্ডা রাখে ভাতের মাড়

শরীর ঠান্ডা রাখতে ভাতের মাড় একটি প্রাকৃতিক ও আরামদায়ক খাদ্য হিসেবে পরিচিত, যা বহুদিন ধরে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ভাতের মাড় মূলত পানিনির্ভর হওয়ায় এটি শরীরের ভেতরের অতিরিক্ত তাপ কমাতে সাহায্য করে এবং পানিশূন্যতা দূর করে। গরম আবহাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম বা শারীরিক পরিশ্রমের পর শরীর যখন ক্লান্ত ও উত্তপ্ত অনুভব করে, তখন ভাতের মাড় শরীরকে স্বস্তি দিতে পারে। এটি শরীরের তাপমাত্রা ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

ভাতের মাড় পাকস্থলী ঠান্ডা রাখতেও উপকারী। অতিরিক্ত ঝাল, ভাজাপোড়া বা অনিয়মিত খাবারের কারণে অনেক সময় পেটে জ্বালাপোড়া, অম্বল বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দেয়। ভাতের মাড় পাকস্থলীর ভেতরে নরম ও শান্ত পরিবেশ তৈরি করে, যা অতিরিক্ত অ্যাসিডের জ্বালা কমাতে সাহায্য করে। ফলে শরীরের ভেতরের অস্বস্তি কমে এবং হালকা আরাম অনুভূত হয়। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে ভাতের মাড় খেলে শরীর হালকা ও সতেজ থাকে।

ওজন কমাতে সহায়তা করে ভাতের মাড়

ওজন কমাতে সহায়তা করার ক্ষেত্রে ভাতের মাড় একটি সহায়ক খাদ্য হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে, বিশেষ করে যখন এটি সঠিকভাবে ও পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা হয়। ভাতের মাড় তুলনামূলকভাবে হালকা ও কম ক্যালোরিযুক্ত পানীয়, যা পেট ভরা অনুভূতি সৃষ্টি করে। ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং অপ্রয়োজনীয় ক্যালোরি গ্রহণ থেকে শরীরকে রক্ষা করা সম্ভব হয়। যারা ডায়েটের সময় ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সমস্যায় পড়েন, তাদের জন্য ভাতের মাড় একটি সহজ ও প্রাকৃতিক বিকল্প হতে পারে।

তবে মনে রাখা জরুরি, ভাতের মাড় নিজে কোনো ওজন কমানোর ওষুধ নয়। এটি মূলত একটি সহায়ক খাদ্য, যা সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের সঙ্গে যুক্ত হলে উপকার দিতে পারে। অতিরিক্ত পরিমাণে ভাতের মাড় খেলে উল্টো ক্যালোরি বেড়ে যেতে পারে, বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। সঠিক পরিমিতি মেনে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে ভাতের মাড় গ্রহণ করলে ওজন কমানোর পথে এটি একটি নিরাপদ ও প্রাকৃতিক সহায়ক হতে পারে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভাতের মাড়

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হিসেবে ভাতের মাড় একটি প্রাকৃতিক ও হালকা খাদ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, বিশেষ করে যখন এটি পরিমিত ও সঠিক উপায়ে গ্রহণ করা হয়। ভাতের মাড়ে প্রচুর পানি থাকে, যা শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ রক্তের সান্দ্রতা স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে, ফলে রক্ত সঞ্চালন সহজ হয় এবং রক্তচাপ ভারসাম্যে রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। গরমে অতিরিক্ত ঘাম বা পানিশূন্যতার কারণে যাদের রক্তচাপ ওঠানামা করে, তাদের ক্ষেত্রে ভাতের মাড় আরামদায়ক হতে পারে।

ভাতের মাড় সাধারণত কম সোডিয়ামযুক্ত একটি খাবার, যা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ রক্তচাপ বাড়ানোর অন্যতম কারণ। লবণ ছাড়া বা অল্প লবণ দিয়ে তৈরি ভাতের মাড় রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।

ভাতের মাড় খাওয়ার নিয়ম

ভাতের মাড় খাওয়ার নিয়ম সঠিকভাবে মেনে চলা হলে এর স্বাস্থ্য উপকারিতা সর্বাধিকভাবে পাওয়া যায়। সাধারণভাবে, ভাতের মাড় সফলভাবে তৈরি করতে অবশ্যই পরিষ্কার ভাত ব্যবহার করা উচিত। ভাত সেদ্ধ করার পর যে হালকা ঘোলা পানি বের হয়, সেটিই ভাতের মাড়। অতিরিক্ত লবণ, মসলা বা তেল যোগ না করে এটি খাওয়া উত্তম, কারণ এতে ভাতের মাড়ের প্রাকৃতিক শক্তি ও সহজপাচ্যতা বজায় থাকে। এছাড়া ভাতের মাড়কে সরাসরি গরম না করে, সামান্য ঠাণ্ডা বা গরম নরম অবস্থায় খাওয়াই উত্তম, যাতে পাকস্থলীর ওপর চাপ না পরে।

ভাতের মাড় খাওয়ার সঠিক সময় নির্ভর করে এর উদ্দেশ্যের ওপর। ভোরবেলায় ফজরের পরে, বিশেষ করে হজম শক্তি বাড়ানো বা শরীরকে সতেজ রাখার জন্য ভাতের মাড় খাওয়া উত্তম। এছাড়াও ডায়রিয়া বা পেটের অস্বস্তি হলে দিনের মধ্যে ছোট ছোট পরিমাণে ভাতের মাড় গ্রহণ করা যেতে পারে। প্রাপ্তবয়স্করা একবারে ১–২ কাপ পরিমিতি মেনে খেতে পারেন, আর শিশুদের জন্য অল্প পরিমাণে খাওয়াই নিরাপদ।

নিয়মিতভাবে ভাতের মাড় খাওয়ার সময় শারীরিক অবস্থার কথা মনে রাখা জরুরি। যারা ডায়াবেটিস, কিডনি বা উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত, তাদের ক্ষেত্রে পরিমিতি বজায় রাখা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে ভাতের মাড় খাওয়ার অভ্যাস থাকলে শরীর ধীরে ধীরে এটি সহজে গ্রহণ করতে অভ্যস্ত হয়ে যায়। এর মাধ্যমে হজম শক্তি বৃদ্ধি, শক্তি যোগ, শরীর ঠান্ডা রাখা এবং সামান্য পুষ্টি উপাদান গ্রহণের সুবিধা পাওয়া যায়। তাই ভাতের মাড় খাওয়ার নিয়ম মেনে, সঠিক পরিমাণে ও সঠিক সময়ে গ্রহণ করাই এর স্বাস্থ্য উপকারিতা নিশ্চিত করার প্রধান মাধ্যম।

ভাতের মাড় খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা

ভাতের মাড় খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা মেনে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যাতে এর স্বাস্থ্য উপকারিতা সর্বাধিকভাবে পাওয়া যায় এবং কোনো ক্ষতি না হয়। প্রথমত, পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যসম্মত ভাত ব্যবহার করা আবশ্যক। যদি ভাত ভালোভাবে ধোয়া না হয় বা সঠিকভাবে রান্না করা না হয়, তাহলে ভাতের মাড়ে ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু থাকতে পারে, যা পেটের সমস্যা বা ডায়রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। তাই ভাত সেদ্ধ করার পর যে ঘোলা পানি বের হয়, সেটি পরিষ্কার ও নিরাপদ হওয়া নিশ্চিত করা জরুরি।

দ্বিতীয়ত, ভাতের মাড়ে অতিরিক্ত লবণ, চিনি বা মসলা যোগ করা থেকে বিরত থাকা উচিত। অনেকেই স্বাদ বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত লবণ বা মশলা মেশান, যা উচ্চ রক্তচাপ, হজম সমস্যা বা অতিরিক্ত ক্যালোরি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও, ভাতের মাড় গরম অতিরিক্ত বা সঠিকভাবে না ঠাণ্ডা করে খাওয়া উচিত নয়, কারণ অতিরিক্ত গরম পানীয় পাকস্থলীতে জ্বালা বা অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে।

তৃতীয়ত, ভাতের মাড় খাওয়ার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। যদিও এটি হালকা ও সহজপাচ্য, একবারে অনেক পরিমাণে খেলে পাকস্থলীতে চাপ পড়তে পারে এবং হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যেতে পারে। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে পরিমাণে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ভাতের মাড় খাওয়ার সময় শারীরিক অসুস্থতা বা বিশেষ রোগের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

ভাতের মাড় স্বাস্থ্যকর ও সহায়ক খাবার হলেও, পরিষ্কারভাবে তৈরি করা, পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ, অতিরিক্ত লবণ বা মশলা এড়ানো এবং শারীরিক অবস্থার উপর খেয়াল রাখাই সতর্কতা মেনে খাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এভাবে নিয়মিত ও সচেতনভাবে ভাতের মাড় গ্রহণ করলে শরীরের হজম শক্তি বৃদ্ধি, শক্তি যোগ, পানিশূন্যতা দূর করা এবং সামান্য পুষ্টি উপাদান গ্রহণের সুবিধা সর্বাধিকভাবে নিশ্চিত করা যায়।

শেষ কথাঃ ভাতের মাড়ের স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে জানুন।

ভাতের মাড় একটি প্রাকৃতিক, হালকা ও সহজপাচ্য খাদ্য, যা বহুদিন ধরে মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে, পাকস্থলী ও অন্ত্রকে স্বাভাবিক রাখে এবং গ্যাস্ট্রিক ও অম্বল কমাতে সহায়ক।

ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানায় ভাতের মাড় শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে, লবণ ও পানি ঘাটতি পূরণ করে এবং দুর্বলতা কমায়। শারীরিক দুর্বলতা, জ্বর বা ক্লান্তির সময় এটি শরীরকে শক্তি যোগ করে এবং পানিশূন্যতা প্রতিরোধে সহায়ক। এছাড়া ভাতের মাড় ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, শরীরকে হালকা রাখে এবং পেট ভরা অনুভূতি দেয়। এটি শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে, ফলে গরম বা উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশে শরীর সতেজ থাকে।

সঠিকভাবে ও পরিমিতভাবে খেলে ভাতের মাড় শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য নিরাপদ ও উপকারী খাদ্য হিসেবে কাজ করে। তবে এটি কোনো ওষুধ নয়, তাই গুরুতর রোগ বা দীর্ঘস্থায়ী সমস্যায় অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। 


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Md. Asadul Islam
Md. Asadul Islam
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও অ্যাডমিন। তিনি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।