শবে বরাত ২০২৬ কত তারিখে বাংলাদেশ ।
শবে বরাত ২০২৬ কত তারিখে বাংলাদেশে পালন করা হবে সে সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন?তাহলে আজকের আর্টিকেলটি শুধুমাএ আপনার জন্য।কারণ আজ আপনাদের সাথে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করবো শবে বরাত ২০২৬ কত তারিখে বাংলাদেশে,ছুটি,রোজা এবং এর ইবাদত,ইতিহাস,হাদিস ও ফজিলত সম্পর্কে।
তাহলে চলুন শবে বরাত ২০২৬ কত তারিখে বাংলাদেশে পালন করা হবে সে সম্পর্কে আজকের আর্টিকেলটিতে বিস্তারিতভাবে জেনে নিই।আজকের আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে বিস্তারিতভাবে জানুন ও পড়ুন।
পেজ সূচিপএঃশবে বরাত ২০২৬ কত তারিখে বাংলাদেশ ।
- শবে বরাত ২০২৬ কত তারিখে বাংলাদেশ
- শবে বরাত ২০২৬ কত তারিখে ছুটি বাংলাদেশ
- শবে বরাত ২০২৬ কত তারিখে কি বারে বাংলাদেশ
- শবে বরাতের রোজা কয়টি
- শবে বরাতের রোজা কবে
- শবে বরাতের রোজা সম্পর্কে হাদিস
- শবে বরাত ২০২৬ কত তারিখে নামাজ
- শবে বরাতের রাতে আতসবাজি ও আলোকসজ্জা
- শবে বরাতের হালুয়া-রুটি তৈরির বিধান
- শবে বরাতের রাতে মসজিদে একএিত হওয়া
- শবে বরাত সম্পর্কে বিদআত
- শবে বরাতের আমল ও ফজিলত
- শবে বরাতের সম্পর্কে হাদিস
- শবে বরাতের নামাজের নিয়ত
- শবে বরাত কি ও কেন পালন করা হয়
- শবে বরাতের ইতিহাস
- শেষ কথাঃশবে বরাত ২০২৬ কত তারিখে বাংলাদেশ ।
শবে বরাত ২০২৬ কত তারিখে বাংলাদেশ
বাংলাদেশে শবে বরাত ২০২৬ পালন করা হবে ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মঙ্গলবার দিবাগত রাতে। অর্থাৎ,সূর্যাস্তের পর থেকে শাবান মাসের ১৫ তারিখের রাত শুরু হবে এবং সেই রাতটিই শবে বরাত হিসেবে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে কাটানো হবে।পরদিন ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বুধবার শবে বরাতের দিন হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে চাঁদ দেখার ওপর তারিখ এক দিন এদিক–সেদিক হতে পারে।এই রাতে মুসলমানরা নফল নামাজ,দোয়া,তওবা ও আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে রাতটি অতিবাহিত করেন।
শবে বরাত মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি রাত। এ রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমত নাজিল করেন এবং গুনাহ মাফের সুযোগ দেন বলে বিশ্বাস করা হয়। এই কারণে মুসলমানরা নফল নামাজ আদায়,কুরআন তিলাওয়াত,জিকির-আজকার ও দোয়ার মাধ্যমে রাতটি অতিবাহিত করেন। অনেকেই নিজের অতীত ভুলের জন্য তওবা করেন এবং ভবিষ্যৎ জীবনে সৎ পথে চলার জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য কামনা করেন।
এছাড়া শবে বরাতের রাতে বাবা-মা,পরিবার-পরিজন এবং ইন্তেকাল করা আত্মীয়দের জন্য দোয়া করা হয়। অনেক মুসলমান পরদিন নফল রোজা রাখেন,যা একটি ফজিলতপূর্ণ আমল হিসেবে পরিচিত। সব মিলিয়ে শবে বরাত ২০২৬ মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি,ক্ষমা প্রার্থনা ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ নিয়ে আসে।
শবে বরাত ২০২৬ কত তারিখে ছুটি বাংলাদেশ
শবে বরাত ২০২৬ কত তারিখে ছুটি সে সম্পর্কে শুধু সরকারি-বেসরকারি চাকুরিজীবিরাই নয়,বিভিন্ন পেশাজীবির মানুষেরা অপেক্ষা করে থাকেন এই দিনটির জন্য।কারণ প্রতিটি মানুষের জন্য ছুটির দিন এমন একটি দিন যে দিনটি মানুষ সমস্ত কর্ম জীবন থেকে বাইরে এসে একটু আরাম অনুভব করে।তারিখ:৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত থেকে (মঙ্গল-বুধবারের আগের রাত) শুরু হওয়া দিবাগত রাতে,অর্থাৎ ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যা থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল পর্যন্ত শবে বরাত পালন করা হবে।
অনেক সরকারি/ধর্মীয় ক্যালেন্ডার এবং ছুটির তালিকায় ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বুধবার)টিকে শবে বরাতের দিন (অর্থাৎ সরকারি ছুটি)হিসেবে দেখানো হয়।বাংলাদেশে শবে বরাত ২০২৬ উপলক্ষে সরকারি ছুটি ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,বুধবার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার ও ব্যাংক ছুটির ক্যালেন্ডার অনুসারে শবে বরাত দিনটিতে সরকারি অফিস,ব্যাংক এবং অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে,যা ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও পরিচ্ছন্ন ইবাদতের সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়।
এই ছুটির দিনটি হিজরি শাবান মাসের ১৫ তারিখের রাতের শবে বরাতকে সামনে রেখে নির্ধারণ করা হয়,যাতে মুসলমানরা সারাদিন বা রাতে বিশেষ দোয়া-ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা চাইতে পারে। ছুটির মাধ্যমে স্বাভাবিক কর্মব্যস্ততা থেকে বিরতি পেয়ে অনেকে পরিবার-পরিজন ও আত্মার জন্য দোয়া-দরুদে মনোনিবেশ করেন।
শবে বরাত ২০২৬ কত তারিখে কি বারে বাংলাদেশ
বাংলাদেশে শবে বরাত ২০২৬ পালিত হবে ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,মঙ্গলবার দিবাগত রাতে। হিজরি সনের শাবান মাসের ১৫ তারিখের রাতকে শবে বরাত বলা হয়। সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে মঙ্গলবার রাতে এই বরকতময় রজনীর সূচনা হবে এবং মুসলমানরা সারা রাত ইবাদত,নফল নামাজ,কুরআন তিলাওয়াত ও দোয়া-মুনাজাতে সময় কাটাবেন। পরদিন ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,বুধবার শবে বরাতের দিন হিসেবে গণ্য করা হয়।এই দিনে বাংলাদেশে সাধারণত সরকারি ছুটি পালন করা হয়, ফলে মানুষ ইবাদতে বেশি সময় দেওয়ার সুযোগ পান।
শবে বরাতকে ক্ষমা ও মুক্তির রাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়,কারণ এই রাতে আল্লাহ তাআলা বান্দাদের গুনাহ মাফ করেন এবং রহমত দান করেন বলে বিশ্বাস করা হয়। অনেক মুসলমান এই রাতকে আত্মশুদ্ধির সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেন এবং অতীতের ভুলের জন্য তওবা করে ভবিষ্যতে সৎ পথে চলার অঙ্গীকার করেন।
শবে বরাতের রোজা কয়টি
শবে বরাতের রোজা মূলত নফল রোজা,ফরজ বা ওয়াজিব নয়।শবে বরাতের রোজা সাধারণত একটি,অর্থাৎ শাবান মাসের ১৫ তারিখে নফল রোজা রাখা হয়। শবে বরাতের রাতের পরদিন এই রোজাটি রাখা সুন্নত ও ফজিলতপূর্ণ আমল হিসেবে বহু আলেম উল্লেখ করেছেন। কারণ হাদিসে এসেছে,রাসুলুল্লাহ শাবান মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখতেন এবং বিশেষ করে মধ্য শাবানের পরদিন রোজা রাখার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।তবে কেউ চাইলে শুধু একটি রোজাই রাখতে পারেন,আবার ইচ্ছা হলে ১৪ ও ১৫ শাবান—এই দুই দিন নফল রোজা রাখতে পারেন।
এছাড়াও শাবান মাস জুড়ে বেশি বেশি নফল রোজা রাখা উত্তম আমল। শবে বরাতের রোজার মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন,গুনাহ থেকে ক্ষমা চাওয়া এবং রমজানের আগেই নিজেকে ইবাদতের জন্য প্রস্তুত করা।
শবে বরাতের রোজা কবে
শবে বরাতের রোজা রাখা হয় শবে বরাতের রাতের পরদিন,অর্থাৎ হিজরি সনের শাবান মাসের ১৫ তারিখে। কারণ ইসলামে রাত আগে আসে,তারপর দিন। তাই শাবান মাসের ১৪ তারিখ সন্ধ্যা থেকে যে রাত শুরু হয় সেটিই শবে বরাতের রাত,আর তার পরদিন অর্থাৎ ১৫ শাবান দিনভর নফল রোজা রাখা হয়। এই রোজাটি নফল হলেও ফজিলতপূর্ণ আমল হিসেবে বহু মুসলমান আদায় করে থাকেন।এটি শুধু আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাধ্যম নয়,বরং আত্মশুদ্ধি ও তওবার চর্চার একটি সুযোগ।
রোজা রাখা ব্যক্তিকে ধৈর্য, সংযম ও তাকওয়ার শিক্ষা দেয়।বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালে শবে বরাতের রোজা পড়বে ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,বুধবার (চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল)। এই দিনে রোজা রেখে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন,গুনাহ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা এবং রমজানের আগে নিজেকে ইবাদতের জন্য প্রস্তুত করার একটি সুন্দর সুযোগ তৈরি হয়।
শবে বরাতের রোজা সম্পর্কে হাদিস
শবে বরাতের রোজা সম্পর্কিত হাদিসে এসেছে যে,রাসুলুল্লাহ শাবান মাসে বিশেষভাবে নফল রোজা রাখতেন। তিনি বলেন,“শাবান মাসটি রমজানের আগে এমন একটি মাস,যেটিতে অনেকেই অবহেলা করে;তাই যিনি শাবান মাসে কিছু রোজা রাখেন,তার সওয়াব আল্লাহর কাছে গোপন থাকে।” (সহীহ হাদিসের সূত্র অনুযায়ী)। বিশেষ করে শাবান মাসের মধ্যবর্তী দিনগুলো,অর্থাৎ শাবান মাসের ১৪ এবং ১৫ তারিখের রোজা রাখাকে ফজিলতপূর্ণ বলে সুপারিশ করা হয়েছে।শবে বরাতের রাতের পরদিন,অর্থাৎ ১৫ শাবান, নফল রোজা রাখা মুসলমানদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
হাদিসে উল্লেখ আছে যে,এই রোজা রাখা ব্যক্তি আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে,গুনাহ মাফের জন্য প্রার্থনা করতে পারে এবং তার রিজিক বরকতময় হয়। যদিও শবে বরাতের রোজা ফরজ নয়,তবে সুন্নতের আলোকে এই রোজা রাখা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। এটি আত্মশুদ্ধি,তাকওয়া বৃদ্ধি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি উত্তম মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়।
শবে বরাত ২০২৬ কত তারিখে নামাজ
বাংলাদেশে শবে বরাত ২০২৬ পালিত হবে ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,মঙ্গলবার রাত থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,বুধবার সকাল পর্যন্ত। এই রাতে মুসলমানরা বিশেষভাবে নফল নামাজ আদায় করেন। শবে বরাতের নামাজ মূলত রাতের নফল ইবাদত,যা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা,তওবা ও দোয়ার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি লাভের একটি সুযোগ। অনেক মুসলিম ব্যক্তি ঘরে বা মসজিদে একাধিক রাকাত নফল নামাজ আদায় করেন।শবে বরাতের রাতে নামাজের পাশাপাশি কোরআন তিলাওয়াত,যিকির,দরুদ পাঠ এবং মৃত আত্মার জন্য দোয়া করা সুন্নত। বিশেষ করে রাতের অর্ধেক সময় আল্লাহর কাছে একনিষ্ঠ দোয়া করার ফজিলত রয়েছে।
হাদিসে এসেছে,শবে বরাতের রাতে আল্লাহ তাআলা প্রথম আসমানে নেমে এসে বলেন,“কে আছে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব।”এই জন্য নামাজের সময় দোয়া ও কৃতজ্ঞতা ব্যক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।শবে বরাতের নামাজ শুধু ইবাদতই নয়,এটি মনকে শান্তি,আত্মাকে শক্তি ও পরবর্তী বছরের জন্য নেক নীয়ত স্থির করার একটি অনন্য সুযোগ দেয়। তাই মুসলমানরা রাতে ঘুমানো এড়িয়ে নামাজ,দোয়া ও কোরআন পাঠের মাধ্যমে রাতটি কাটান,যাতে আল্লাহর রহমত,সওয়াব ও মাগফিরাত লাভ করা যায়।
শবে বরাতের রাতে আতসবাজি ও আলোকসজ্জা
শবে বরাতের রাতে বাংলাদেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে দেখা যায় মসজিদ ও আশেপাশের এলাকায় আলোকসজ্জা,বাতি ও ফেস্টুনের মাধ্যমে পরিবেশকে উজ্জ্বল করা হয়। অনেক পরিবার ও সম্প্রদায় ঘরের বারান্দা,ছাদ ও বারান্দায় রঙিন বাতি ও ছোট আলোর ব্যবস্থা করে রাতটিকে আরও উৎসবমুখর করে। কিছু এলাকায় সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য আতসবাজি চলতে দেখা যায়,যা মূলত সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যগত রীতির অংশ।আতসবাজি ও আলোকসজ্জার মাধ্যমে মানুষ রাতের উদাসীন পরিবেশকে আনন্দময় ও স্মরণীয় করে তোলে। তবে ইসলামের আলোকে এটি নৈতিক দিক দিয়ে সুপরামর্শক নয়;শবে বরাতের মূল উদ্দেশ্য হলো নফল নামাজ,দোয়া,তওবা ও আত্মশুদ্ধি।
তাই ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা অধিকাংশ সময় রাতকে শান্তিপূর্ণ ইবাদত ও দোয়ায় কাটান,তবে কিছু সম্প্রদায় এই রাতে আতসবাজি ও আলোকসজ্জার মাধ্যমে ঐতিহ্য ও আনন্দের ছোঁয়া যোগ করে।শবে বরাতের রাতের আলোকসজ্জা সাধারণত মসজিদ,প্রার্থনালয় এবং ঘরের বাইরে প্রয়োগ করা হয়,যা রাতটিকে মনোমুগ্ধকর করে তোলে। এটি মূলত সাংস্কৃতিক আনন্দ এবং ধর্মীয় উৎসাহ বৃদ্ধি করার জন্য ব্যবহৃত হলেও,ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নামাজ,দোয়া ও ইবাদতের গুরুত্ব সর্বোচ্চ।
বেড়াতে দেখা যায় অনেক ছেলে মেয়েরা এমনকি অনেক বড়রাও রং বেরং এর আতসবাজি ফোটানো এবং আগরবাতি জ্বালানো ইত্যাদি বেহুদা কাজে সারা রাত কাটিয়ে দেয়। অনেক মা বাবাও ছেলে মেয়েদেরকে এই গুনাহের কাজে সহযোগিতা করেন এবং তাদেরকে ছোট বেলা থেকে গুনাহের কাজে অভ্যস্ত করেন। অনেক মসজিদে মোমবাতি বা বৈদ্যুতিক শয্যায় বিয়ে বাড়ির মত করে দেয়া হয়।এসব প্রথা আমাদের দেশে অনেকটা হিন্দুদের থেকে চলে এসেছে। আর বলার অপেক্ষা রাখে না যে অন্য জাতির ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের অনুকরণ স্পষ্ট হারাম।
তাই আমাদের এবং আমাদের আশে পাশের মানুষদের এ ধরনের কাজ কর্ম থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে। এবং শবে বরাতের মতো একটি ফজিলতময় রাতকে ইবাদত ও আমলের মাধ্যমে পরিপূর্ণ করতে হবে।
শবে বরাতের হালুয়া-রুটি তৈরির বিধান
শবে বরাতের রাতে হালুয়া ও রুটি তৈরি করার প্রথা বাংলাদেশের মুসলিম পরিবারে এক দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। এই রাতে হালুয়া,চিনি বা মিষ্টি রুটি বানানো হয় এবং তা পরিবার,আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এটি কেবল রীতিনীতি নয়, বরং শবে বরাতের বরকত ও সৌভাগ্য বৃদ্ধি করার একটি প্রতীকী কাজ। অনেক পরিবার বিশ্বাস করেন,এই রাতে খাবার প্রস্তুত করা ও দান করা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা ও নেক আমলের সঙ্গে মিলিত হলে বিশেষ সওয়াব হয়।
শবে বরাতের হালুয়া রুটি তৈরির বিধান সম্পর্কে রিসার্চ করতে গেলে দেখা গেছে অনেকে ধারণা করেন রাসূল কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মোবারক দাঁত শহীদ হওয়ার পর তিনি হালুয়া খেয়েছিলেন। তার শরণার্থে শবে বরাতে হালুয়া রান্না করা হয়। অথবা অনেকের বক্তব্য হল এই দিনে হযরত হামযাহ (রা:) শহীদ হয়েছিলেন। তার ইসালে সওয়াবের জন্য হালুয়া রান্না করা হয়। প্রথমত একথা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন যে এই তারিখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাঁত শহীদ হয়েছিলেন বা হযরত হামজার (রা:) শহীদ হয়েছিলেন।
ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে,শবে বরাতের হালুয়া বা রুটি তৈরির কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, তবে অনেক আলেমের মতে,পবিত্র রাতের আনন্দ ও বরকত বৃদ্ধি করার জন্য পরিবার‑পরিজনের সঙ্গে কিছু খাবার প্রস্তুত করে বিতরণ করা উত্তম। বিশেষ করে দুঃস্থ ও নিঃস্বদের জন্য হালুয়া,রুটি বা অন্য কোনো খাবার দেওয়া সওয়াবপূর্ণ আমল। এই প্রথা রাতের ইবাদত,দোয়া এবং নফল নামাজের সঙ্গে মিলিত হয়ে শবে বরাতকে আরও স্মরণীয় এবং মহিমান্বিত করে তোলে।কিছু এলাকায় হালুয়া তৈরি করে মসজিদ বা দরগাহ-তে দেওয়া হয়,যা শবে বরাতের সামাজিক ও ধর্মীয় দিককে শক্তিশালী করে।
শবে বরাতের রাতে মসজিদে একএিত হওয়া
শবে বরাতের রাতে মুসলমানরা প্রায়শই মসজিদে একত্রিত হয়ে নামাজ ও ইবাদত সম্পন্ন করেন,যা এই রাতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।এই রাতে মসজিদগুলোতে জামাত,নফল নামাজ,কোরআন তিলাওয়াত,যিকির ও দরুদ পাঠ চলে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত। মসজিদে একত্রিত হওয়ার মাধ্যমে মানুষ একে অপরের সঙ্গে দোয়া ও নেক কাজের প্রেরণা ভাগাভাগি করে,যা ব্যক্তিগত ইবাদতকে আরও শক্তিশালী করে।শবে বরাতের রাতে মসজিদে আসা মানুষের মধ্যে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আগ্রহ ও ধর্মীয় ভক্তি লক্ষ্য করা যায়।
হাদিসে এসেছে,শবে বরাতের রাতে আল্লাহ তাআলা প্রথম আসমানে নেমে এসে বলেন,“কে আছে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব।” এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মুসলিমরা একে অপরের সঙ্গে দোয়া ভাগাভাগি করেন, মৃত আত্মার জন্য দোয়া পাঠ করেন এবং ভবিষ্যতের জন্য নেক নীয়ত স্থির করেন।মসজিদে একত্রিত হওয়া শুধু ইবাদতের জন্য নয়,বরং সামাজিক ও আধ্যাত্মিক বন্ধন গড়ে তোলার একটি সুযোগ। শিশু,যুবক ও বৃদ্ধরা সবাই এই রাতে একত্রিত হয়ে শবে বরাতের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে।
এছাড়া এটি সম্প্রদায়ের মধ্যে সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করে এবং সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ ও নৈতিক সমাজ গঠনে সহায়ক হয়।শবে বরাতে মসজিদে একত্রিত হওয়া ও রাত জেগে শুধু ইবাদত করা মোটেও দোষের কিছু নয়। কারণ এ রাতে প্রত্যেক মুসলমান ঘর থেকে পুরুষগণ দলে দলে মসজিদে যায় এবং সারা রাত জাগরণ করে আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন থাকেন। আর মুসলিম ধর্মীয় প্রত্যেকটি নারী বা মহিলাগণ বাসায় রাত্রি জাগরণ করে থাকেন।কিন্তু মসজিদে ছোট বড় সব মিলে হৈ হুল্লোড় জমিয়ে দেওয়া শিন্নি পাকানো অবশ্যই অন্যায়।
এমনকি অনেক জায়গায় তো মহিলারাও পুরুষদের সাথে জমা হয়ে যায়। অথচ মহিলাদের ফরজ নামাজের জন্য মসজিদে যেতে বারণ করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে নফল ইবাদতের জন্য মসজিদে যাওয়ার কোন প্রশ্নই ওঠে না।
শবে বরাত সম্পর্কে বিদআত
শবে বরাত সম্পর্কে বিদআত বিষয়টি নিয়ে ইসলামী আলেমদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। ইসলামের মূলনীতি অনুযায়ী,যে আমল কুরআন ও সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয় এবং রাসুলুল্লাহ ও সাহাবায়ে কেরাম যে ভাবে পালন করেননি,সেগুলো বিদআত হিসেবে গণ্য হয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে শবে বরাতের রাতে নির্দিষ্ট সংখ্যা অনুযায়ী নামাজ পড়া,বিশেষ নিয়ত বা নির্দিষ্ট সূরা বেঁধে নামাজ আদায় করা,আতসবাজি ফোটানো,অতিরিক্ত আলোকসজ্জা,বা এই রাতকে ঈদের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপন করা,এসব কাজ অনেক আলেম বিদআত বলে মনে করেন।
তবে শবে বরাতের রাতে নফল নামাজ,কোরআন তিলাওয়াত,দোয়া,জিকির ও তওবা করা নিজেই বিদআত নয়,কারণ এগুলো সাধারণ ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত এবং যে কোনো রাতে করা বৈধ। বিদআত তখনই হয়,যখন এসব আমলকে শবে বরাতের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম,নির্দিষ্ট রাকাত বা বাধ্যতামূলক বলে প্রচার করা হয়। তাই আলেমদের পরামর্শ হলো,শবে বরাতের রাতে বাড়াবাড়ি ও ভিত্তিহীন রীতি পরিহার করে সহজ,শান্ত ও সুন্নাহসম্মত ইবাদতের মাধ্যমে রাতটি অতিবাহিত করা।
শবে বরাতের আমল ও ফজিলত
শবে বরাত ইসলামের একটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ রাত,যা হিজরি সনের শাবান মাসের ১৫ তারিখে পালিত হয়। এই রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমত নাজিল করেন এবং ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ দেন বলে হাদিসে বর্ণনা রয়েছে। শবে বরাতের মূল ফজিলত হলো,এই রাতে আল্লাহ তাআলা অসংখ্য বান্দার গুনাহ ক্ষমা করে দেন,যদি তারা আন্তরিকভাবে তওবা করে এবং শিরক,হিংসা ও বিদ্বেষ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখে।
শবে বরাতের রাতে যে আমলগুলো করা উত্তম,তার মধ্যে রয়েছে নফল নামাজ আদায়,কোরআন তিলাওয়াত,জিকির ও দরুদ পাঠ এবং আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করা। নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা চাওয়া,জীবনের ভুলের জন্য তওবা করা এবং ভবিষ্যতে সৎ পথে চলার দৃঢ় নিয়ত করা এই রাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল। এছাড়া বাবা-মা,পরিবার-পরিজন ও ইন্তেকাল করা আত্মীয়দের জন্য মাগফিরাতের দোয়া করাও এই রাতের ফজিলতপূর্ণ কাজ।
শবে বরাতের সম্পর্কে হাদিস
শবে বরাত সম্পর্কে একাধিক হাদিসে এর ফজিলত ও গুরুত্ব উল্লেখ করা হয়েছে। হাদিসে বর্ণিত আছে,শাবান মাসের ১৫তম রাতে আল্লাহ তাআলা বিশেষভাবে তাঁর বান্দাদের প্রতি দৃষ্টি দেন এবং বহু মানুষকে ক্ষমা করে দেন। হজরত আয়েশা (রা.)থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে যে,রাসুলুল্লাহ এই রাতে দীর্ঘ সময় ইবাদতে মশগুল থাকতেন এবং আল্লাহ তাআলা এই রাতে মুশরিক,হিংসুক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যক্তি ছাড়া বাকিদের ক্ষমা করে দেন। এই হাদিসগুলো ইঙ্গিত করে যে,শবে বরাত ক্ষমা ও রহমতের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাত।
আরেকটি হাদিসে উল্লেখ রয়েছে,রাসুলুল্লাহ বলেছেন,আল্লাহ তাআলা শাবান মাসের মধ্যরাতে (১৫ শাবান)আসমানে অবতরণ করেন এবং বলেন,“কে আছে ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। কে আছে রিজিক চাইবে?আমি তাকে রিজিক দান করব।”(ইবনে মাজাহ ও অন্যান্য হাদিস গ্রন্থে বর্ণিত)। এসব হাদিসের আলোকে অনেক আলেম শবে বরাতের রাতে নফল নামাজ,দোয়া,তওবা ও জিকিরে মনোযোগী হওয়াকে উত্তম আমল হিসেবে গণ্য করেছেন।
তবে আলেমরা এ বিষয়েও সতর্ক করেছেন যে,শবে বরাত সম্পর্কে দুর্বল হাদিসও প্রচলিত আছে। তাই কোনো নির্দিষ্ট রাকাত বা নির্দিষ্ট নিয়মকে বাধ্যতামূলক মনে না করে,সাধারণ নফল ইবাদত ও আন্তরিক তওবার মাধ্যমে রাতটি কাটানোই সুন্নাহসম্মত।
শবে বরাতের নামাজের নিয়ত
শবে বরাতের নামাজের জন্য আলাদা কোনো নির্দিষ্ট নিয়ত বাধ্যতামূলক নয়,কারণ এটি নফল ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। সাধারণভাবে মুসলমানরা মনে মনে এই নিয়ত করেন যে,“আমি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য নফল নামাজ আদায় করছি।”শবে বরাতের রাতে নামাজ পড়ার সময় মুখে উচ্চস্বরে নিয়ত বলা জরুরি নয়;বরং হৃদয়ে আল্লাহর উদ্দেশ্যে ইবাদতের ইচ্ছাই হলো প্রকৃত নিয়ত। তাই যে কেউ দুই রাকাত,চার রাকাত বা তার বেশি নফল নামাজ পড়তে চাইলে প্রতিবার মনে মনে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ক্ষমা প্রার্থনার নিয়ত করলেই তা যথেষ্ট।
শবে বরাতের নামাজের নিয়তের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর নৈকট্য লাভ,গুনাহের জন্য ক্ষমা চাওয়া এবং আত্মশুদ্ধি অর্জন করা। নামাজের পর দোয়া,তওবা ও দরুদ পাঠের মাধ্যমে নিয়তকে আরও অর্থবহ করা যায়। নির্দিষ্ট সংখ্যা বা বিশেষ শব্দে নিয়ত বাধ্যতামূলক মনে না করে,আন্তরিকতা ও একনিষ্ঠতার সঙ্গে আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোই শবে বরাতের নামাজের প্রকৃত শিক্ষা।
শবে বরাত কি ও কেন পালন করা হয়
শবে বরাত ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ রাত। আরবি ভাষায় একে বলা হয় লাইলাতুল বারাআত,যার অর্থ হলো মুক্তির রাত বা নাজাতের রাত। হিজরি সনের শাবান মাসের ১৫ তারিখের রাতে শবে বরাত পালিত হয়। মুসলমানরা বিশ্বাস করেন, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমত নাজিল করেন এবং গুনাহ মাফের সুযোগ দেন। তাই এই রাতকে ক্ষমা,দোয়া ও আত্মশুদ্ধির রাত হিসেবে গণ্য করা হয়।
হাদিসে এসেছে,এই রাতে আল্লাহ তাআলা বান্দাদের আমলের প্রতি দৃষ্টি দেন এবং যারা আন্তরিকভাবে তওবা করে,তাদের ক্ষমা করেন। এজন্য মুসলমানরা নফল নামাজ আদায়,কোরআন তিলাওয়াত,জিকির, দরুদ পাঠ এবং দোয়ার মাধ্যমে রাতটি অতিবাহিত করেন। শবে বরাত মানুষকে গুনাহ থেকে ফিরে এসে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সুযোগ দেয় এবং রমজানের আগে নিজেকে ইবাদতের জন্য প্রস্তুত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত হয়।
শবে বরাতের ইতিহাস
শবে বরাতের ইতিহাস ইসলামের প্রাথমিক যুগের সঙ্গে সম্পর্কিত। আরবি ভাষায় এই রাতকে লাইলাতুল বারাআত বলা হয়,যার অর্থ মুক্তি বা নিষ্কৃতির রাত। হিজরি বর্ষপঞ্জির শাবান মাসের ১৫ তারিখের রাতকে কেন্দ্র করে শবে বরাতের ধারণা গড়ে ওঠে। বিভিন্ন হাদিসে উল্লেখ আছে,এই রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষভাবে দৃষ্টি দেন এবং ক্ষমা ও রহমতের দরজা খুলে দেন। রাসুলুল্লাহ এর যুগ থেকেই এই রাতের গুরুত্ব মুসলমানদের মধ্যে আলোচিত ছিল,যদিও তিনি এটিকে কোনো আনুষ্ঠানিক উৎসব হিসেবে পালন করেননি।
ইতিহাসবিদ ও আলেমদের মতে,শবে বরাতের গুরুত্ব ধীরে ধীরে মুসলিম সমাজে বিস্তৃত হয়। বিশেষ করে উপমহাদেশ,মধ্যপ্রাচ্য ও কিছু মুসলিম দেশে এই রাতকে ইবাদত ও দোয়ার মাধ্যমে কাটানোর রীতি গড়ে ওঠে। সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়িনরা এই রাতে নফল ইবাদতে মনোযোগী হতেন বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনায় পাওয়া যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শবে বরাতকে কেন্দ্র করে কিছু সাংস্কৃতিক রীতিও যুক্ত হয়েছে,তবে ইসলামের মূল শিক্ষায় এই রাতের ইতিহাস মূলত ক্ষমা,তওবা ও আত্মশুদ্ধির ধারার সঙ্গে সম্পর্কিত।
শেষ কথাঃশবে বরাত ২০২৬ কত তারিখে বাংলাদেশ ।
বাংলাদেশে শবে বরাত ২০২৬ পালিত হবে ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,মঙ্গলবার দিবাগত রাতে। অর্থাৎ সূর্যাস্তের পর থেকে শাবান মাসের ১৫ তারিখের পবিত্র রাত শুরু হবে এবং সারা রাত ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে শবে বরাত পালন করা হবে। পরদিন ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,বুধবার শবে বরাতের দিন হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে ইসলামি নিয়ম অনুযায়ী চাঁদ দেখার ওপর তারিখ এক দিন আগে বা পরে হতে পারে।তবে মনে রাখা জরুরি যে,ইসলামি ক্যালেন্ডার চাঁদের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় চাঁদ দেখার ভিত্তিতে তারিখ এক দিন এগিয়ে বা পিছিয়ে যেতে পারে।
তাই শবে বরাতের সঠিক তারিখ জানতে স্থানীয় চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণার দিকে নজর রাখা উত্তম। সব মিলিয়ে,শবে বরাত ২০২৬ মুসলমানদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা,আত্মশুদ্ধি ও নেক আমলের মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ নিয়ে আসবে।উপরে উক্ত আর্টিকেলে আজ আপনাদের সাথে আলোচনার মুখ্য বিষয় ছিল শবে বরাত ২০২৬ কত তারিখে বাংলাদেশে পালিত হবে সে সম্বন্ধে।
সাথে আরো আলোচনা করেছি শবে বরাত ২০২৬ কত তারিখে ছুটি এবং শবে বরাত এর ইবাদত ও ফজিলত সম্বন্ধে বিভিন্ন তথ্য সম্বন্ধে। আশা করি আজকের আর্টিকেলটি পড়ে আপনি অনেক উপকৃত হয়েছেন এবং আপনার অনেক ভালো লেগেছে।আজকের আর্টিকেলটি পড়ে আপনার কোন কোন বিষয় গুলি ভালো লেগেছে এবং আপনি কত টুকু উপকৃত হয়েছেন তা আপনার নিকটস্থ বন্ধুদের সাথে অবশ্যই শেয়ার করবেন। এমনই গুরুত্বপূর্ণ ও শিক্ষনীয় আর্টিকেল প্রতি দিন পেতে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করবেন। এতক্ষণ আমাদের সাথে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url